দক্ষিণবঙ্গে তীব্র দাবদাহের সঙ্গে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের মারাত্মক ঝুঁকি

দক্ষিণবঙ্গে তীব্র দাবদাহের সঙ্গে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের মারাত্মক ঝুঁকি

কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে থাবা বসিয়েছে প্রচণ্ড গরম। সকাল থেকেই সূর্যের তীব্র উত্তাপের পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রাও আকাশছোঁয়া। ফলে পারদের চেয়েও অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে গরম। একটানা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাচ্ছে জল ও জরুরি খনিজ। আবহাওয়ার এমন চরম রূপের কারণেই বর্তমানে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সতর্ক করছেন কলকাতার শীর্ষ চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের মতে, তীব্র গরমের কারণে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং সঠিক সময়ে সচেতন না হওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। এর প্রভাবে মানুষের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি।

লক্ষণ ও শারীরিক জটিলতা

চিকিৎসকদের মতে, হিট স্ট্রোক হুট করে হয় না, এটি মূলত শরীরের কয়েকটি ধারাবাহিক জটিলতার শেষ পর্যায়। প্রাথমিক স্তরে পেশিতে টান ধরা বা ‘হিট ক্র্যাম্প’ হয়। এরপর দেখা দেয় ‘হিট এক্সহউশন’, যার লক্ষণে শরীরে চরম অস্বস্তি, প্রচণ্ড ঘাম ও ক্লান্তি আসে। এর পরের ধাপে ‘হিট সিনকোপ’-এর কারণে রোগী অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারেন। আর একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়ে আঘাত হানে হিট স্ট্রোক, যেখানে শরীরের তাপমাত্রা এক ধাক্কায় ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে যায়। হিট স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে রোগীর তীব্র মানসিক বিভ্রান্তি, কথা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া, ভুল বকা, অজ্ঞান হয়ে পড়া এবং শরীরের তাপমাত্রা আচমকা প্রচণ্ড বেড়ে যাওয়া।

জরুরি চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে কিছু করার মতো অবস্থায় থাকেন না, তাই আশেপাশের মানুষদের দ্রুত পদক্ষেপ করা জরুরি। আক্রান্ত রোগীকে অনতিবিলম্বে রোদ থেকে সরিয়ে ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে এবং চোখে-মুখে ঠান্ডা জল বা বরফ দিতে হবে। এরপর কোনো রকম দেরি না করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, কারণ চিকিৎসায় অবহেলা হলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। হাসপাতালে সাধারণত রোগীর পোশাক হালকা করে ভিজে তোয়ালে দিয়ে শরীর ঠান্ডা করা হয় এবং প্রয়োজনে আইভি ফ্লুইড দেওয়া হয়।

এই মারাত্মক পরিস্থিতি এড়াতে চিকিৎসকরা কিছু প্রতিরোধমূলক নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। খুব প্রয়োজন না হলে কড়া রোদে বাইরে বের হওয়া বন্ধ করতে হবে। বাইরে বেরোতেই হলে অবশ্যই মাথায় ছাতা ব্যবহার করা এবং হালকা সুতির পোশাক পরা উচিত। এছাড়া, এসি ঘর বা গাড়ি থেকে বেরিয়েই সরাসরি কড়া রোদে না গিয়ে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে এই সময়ে সুস্থ থাকতে শরীর হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি, যার জন্য প্রচুর পরিমাণে পরিমিত জল পান করা এবং সহজপাচ্য হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *