তৃণমূল নেতার গ্রেফতারে ক্যানিংয়ে নজিরবিহীন জনরোষ, মহিলারা তেড়ে গেলেন ঝাঁটা-জুতো নিয়ে

তৃণমূল নেতার গ্রেফতারে ক্যানিংয়ে নজিরবিহীন জনরোষ, মহিলারা তেড়ে গেলেন ঝাঁটা-জুতো নিয়ে

দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের এক নজিরবিহীন বহিঃপ্রকাশ ঘটল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ক্যানিংয়ে। গণনার দিন এক বিজেপি কর্মীকে গুলি করার অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যানিংয়ের তৃণমূল যুব সভাপতি অরিত্র বোসকে গ্রেফতারের পর, তাঁর ওপর আছড়ে পড়ল তীব্র জনরোষ। সোমবার রাতে আনন্দপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর, মঙ্গলবার সকালে ক্যানিং থানার সামনে তাঁর প্রিজন ভ্যান ঘিরে ঝাঁটা ও জুতো হাতে তুমুল বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মহিলারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত এলাকায় নামাতে হয় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী।

ভোট পরবর্তী হিংসা ও গ্রেফতারের পটভূমি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের গণনার দিন সন্ধ্যায় এক বিজেপি কর্মীকে গুলি করার অভিযোগ ওঠে অরিত্র বোসের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল। সোমবার রাতে তাঁকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার সকালে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসা হয়। এই খবর চাউর হতেই হাসপাতালের বাইরে এবং ক্যানিং থানার সামনে শতাধিক সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা ঝাঁটা ও জুতো হাতে জড়ো হতে শুরু করেন। হাসপাতাল থেকে বের করে যখন তৃণমূল নেতাকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তখনই জনতা ভ্যানটি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে এবং গাড়ি লক্ষ্য করে ঝাঁটা-জুতো পেটাতে থাকে।

অত্যাচারের অভিযোগ ও জনরোষের কারণ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই ক্ষোভ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের ‘অত্যাচারের’ ফল। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিগত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় এলাকায় যে ব্যাপক সন্ত্রাস চালানো হয়েছিল, তার নেপথ্যে ছিলেন এই যুব নেতা। সে সময় সমস্ত পুলিশি মামলা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। বিক্ষোভকারী স্থানীয় মহিলাদের বক্তব্য, দীর্ঘ বছর ধরে এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, এটি তারই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আইন-শৃঙ্খলার প্রভাব

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যানিংয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দল কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি সমর্থন করে না, তবে সাধারণ মানুষের ওপর বছরের পর বছর ধরে যে অত্যাচার চালানো হয়েছে, আজ মহিলারা রাস্তায় নেমে তারই জবাব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং অরিত্র বোসকে নিরাপদে আলিপুর আদালতে পাঠানোর জন্য প্রশাসনকে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। বাহিনী এসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *