জিম করবেটে বিরল কাণ্ড, যমজ শাবকের জন্ম দিয়ে নেটপাড়া মাতাল হস্তিনী!

জিম করবেটে বিরল কাণ্ড, যমজ শাবকের জন্ম দিয়ে নেটপাড়া মাতাল হস্তিনী!

উত্তরাখণ্ডের জিম করবেট জাতীয় উদ্যানের গভীর জঙ্গলে ক্যামেরাবন্দি হয়েছে এক বিরল ও অভূতপূর্ব দৃশ্য। সাধারণত বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা যে দৃশ্য দেখার সুযোগ খুব একটা পান না, ঠিক তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন উদ্যানের বন কর্মকর্তারা। গত ৯ মে বিজ্রানি জ়োনের জাডপাহাড় এলাকায় একটি বুনো হাতিকে তার সদ্যোজাত যমজ শাবকের সঙ্গে প্রথম দেখা যায়। পরবর্তীতে ১২ এবং ১৩ মে গারজিয়া পর্যটন অঞ্চলেও এই ত্রয়ীকে ঘুরে বেড়াতে দেখেন বন বিভাগের কর্মীরা। হস্তিনীর এই যমজ সন্তান প্রসবের ঘটনা বন্যপ্রাণী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

সম্প্রতি সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে এই মা হাতি ও তার যমজ সন্তানদের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, যমজ শাবক দুটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে তাদের মায়ের সঙ্গে হেঁটে বেড়াচ্ছে এবং খেলাচ্ছলে মায়ের চারপাশে ঘুরছে। মা হাতিটিও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গভীর জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সন্তানদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। এই মিষ্টি ও বিরল দৃশ্য দেখে নেটিজেনরা যেমন আনন্দ প্রকাশ করেছেন, তেমনই বন্যপ্রাণী প্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম বিস্ময়।

বিশেষজ্ঞদের বিস্ময়ের কারণ ও বিরল ঘটনা

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতির ক্ষেত্রে যমজ বাচ্চার জন্ম দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং বন্য পরিবেশে এটি এক শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। সাধারণত, একটি স্ত্রী হাতি প্রায় ২২ মাস গর্ভধারণের পর মাত্র একটি শাবকের জন্ম দেয়। আইএফএস কর্তা হিমাংশু ত্যাগী জানিয়েছেন, জন্মের সময় একটি হাতি শাবকের ওজন সাধারণত ৭০ থেকে ১২০ কিলোগ্রামের মধ্যে হয়ে থাকে। ফলে, গর্ভে একসঙ্গে দুটি সন্তান ধারণ করা এবং তাদের পুষ্টি জোগানো মা হাতির জন্য শারীরিক ও বিপাকীয়ভাবে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বিষয়। এই অস্বাভাবিক শারীরিক চাপের কারণেই হাতির যমজ সন্তান প্রসবের ঘটনাকে এতটা অসাধারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকৃতি ও সংরক্ষণের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাকে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক ও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বন্য পরিবেশে এই যমজ শাবককে টিকিয়ে রাখা মা হাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, দুটি সন্তানের পুষ্টির চাহিদা মেটানো এবং একই সঙ্গে শিকারী প্রাণীদের হাত থেকে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মায়ের ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি হয়। বন্য পরিবেশে এই যমজ শাবক দুটির সুস্থ থাকা এবং বেঁচে থাকার ওপর এখন কড়া নজর রাখছেন বন কর্মকর্তারা, কারণ তাদের সফলভাবে বেড়ে ওঠা বন্যপ্রাণী বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *