সিন্ডিকেটের মাথায় সোনা পাপ্পু, ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি হাতিয়ে নেওয়ার বিস্ফোরক তথ্য আদালতে

কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি সিন্ডিকেট চালানো এবং ভয় দেখিয়ে সম্পত্তি হস্তগত করার একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার রাতে গ্রেফতার হওয়া এই ব্যবসায়ীকে মঙ্গলবার আদালতে পেশ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আদালতে ইডির আইনজীবী দাবি করেছেন, সোনা পাপ্পু একা নন, রিয়েল এস্টেট সিন্ডিকেটের এই চক্রে বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কলকাতার পুলিশকর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসও জড়িত ছিলেন, যার অন্যতম প্রধান রূপকার ছিলেন পাপ্পু। তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে ১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ইডি।
জমি দখলের অভিনব ছক ও কোটি কোটি টাকার লেনদেন
আদালতে ইডির পেশ করা তথ্যে উঠে এসেছে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও পেশিশক্তি ব্যবহারের বিবরণ। তদন্তকারীদের দাবি, মূলত বয়স্ক ও অসহায় মানুষদের নিশানা করে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে জমি লিখে নেওয়া হতো এবং সেখানে নির্মাণকাজ চালাতে ‘ক্রিমিনাল মাস্ল’ বা অপরাধী চক্র ব্যবহার করা হতো। উদাহরণ হিসেবে ইডি জানায়, ২০২৪ সালে যে জমির বাজারমূল্য ছিল ৭.৭ কোটি টাকা, তা মাত্র ১ কোটিতে কেনা হয়। একইভাবে ২০২২ সালে ৫.৪২ কোটি টাকার ১৮ কাটার একটি জমি মাত্র ১.৩৯ কোটি টাকায় হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পাপ্পু ও তাঁর পরিবারের নামে এমন অন্তত ৩০টি রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ সংস্থার সন্ধান মিলেছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা হতো।
তদন্তে অসহযোগিতা ও অস্ত্রের ব্যবহার
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সোনা পাপ্পু তদন্তে সম্পূর্ণ অসহযোগিতা করেছেন। এর আগে তিন বার সমন পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা দেননি, অবশেষে সোমবার আচমকা ইডি দফতরে আসেন। তল্লাশি অভিযানে পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি রিভলভারও উদ্ধার হয়েছে, যা জয় কামদারের সংস্থার নামে কেনা হয়েছিল এবং কাঁকুলিয়ার একটি এলাকায় অশান্তি ছড়াতে সেটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে কামদার ও পাপ্পুর সংস্থার মধ্যে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
যদিও পাপ্পুর আইনজীবীর দাবি, সমস্ত নিয়ম মেনেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র কেনা হয়েছিল এবং কম দামে জমি কেনা হলে মালিকেরা কেন অভিযোগ করলেন না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। মক্কেলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে দাবি করে আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়েছে। তবে এই সিন্ডিকেটের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এর পেছনে আর কোন প্রভাবশালী যোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চাইছে ইডি।