স্বাভাবিক তাপমাত্রা সত্ত্বেও দক্ষিণবঙ্গে চরমে অস্বস্তি, নেপথ্যে আন্দামানের জলীয় বাষ্প!

কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বড়জোর ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও সর্বনিম্ন আর্দ্রতার পরিমাণ ৬২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ আর্দ্রতা ৮৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে ভোর বা রাত, কোনো সময়েই স্বস্তি মিলছে না এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্যাচপেচে গরম ও ঘর্মাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
অস্বস্তির মূল কারণ ও আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি
আবহবিদদের মতে, এই চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির প্রধান কারণ বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি। সাধারণত আর্দ্রতা ৪০ শতাংশের কাছাকাছি থাকলে আবহাওয়া স্বস্তিদায়ক হয়। বর্তমানে আন্দামানে বর্ষা প্রবেশ করার কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প পশ্চিমবঙ্গের ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে। আন্দামানের ক্ষেত্রে যা বর্ষা ডেকে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে, সেই জলীয় বাষ্পের কারণেই দক্ষিণবঙ্গে ঘাম না শুকানোর সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং অস্বস্তি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাক-বর্ষা মরসুমে এই ধরণের পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস ও জেলাভিত্তিক সতর্কতা
আগামী সাত দিন রাজ্যে তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদে হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বওয়ার সম্ভাবনায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম ও নদিয়ায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাসসহ কমলা সতর্কতা রয়েছে। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও জলীয় বাষ্পের কারণে ভ্যাপসা গরম এখনই কমছে না।
ঝড়বৃষ্টির পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম ও বীরভূমে গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত গরমের অস্বস্তি বজায় থাকবে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আট জেলাতেও আগামী শনিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কোচবিহার ও কালিম্পঙে সপ্তাহের শেষদিকের দিনগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।