প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নাকি শুধুই আশ্বাস, মহেশগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আচমকা বিজেপি বিধায়ক!

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন নবদ্বীপের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী। এলাকার অনুন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার হাল ফেরাতে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রকৃত চিত্র খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি তিনি মহেশগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে যান। বিধায়কের এই আচমকা পরিদর্শনে হাসপাতালের পরিকাঠামোগত বহু খামতি ও অব্যবস্থার চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। গঙ্গার এপার-ওপার সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের যে অঙ্গীকার তিনি করেছিলেন, এই পদক্ষেপকে তারই প্রথম বাস্তব রূপ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্ধকারে হাসপাতাল, নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোয় বড়সড় গলদ
পরিদর্শন শেষে বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও, এর অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মহেশগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামগ্রিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। হাসপাতালে জরুরি বিভাগের (ইমার্জেন্সি) জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট পরিকাঠামো নেই, যার ফলে সাধারণ রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া, কোনো অপারেশন থিয়েটার (ওটি) না থাকায় জটিল বা জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের দূরবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়। পর্যাপ্ত আউটডোর পরিষেবার জায়গার অভাবও রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই। ফলে লোডশেডিংয়ের সময় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়। এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে রাতের বেলা দুষ্কৃতীদের আনাগোনা ও দাপট বাড়ছে বলে স্থানীয় স্তরে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাধীন রোগী, তাঁদের পরিজন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন চরম সংকটে।
উদ্যোগের কারণ ও এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবায় সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত গ্রামীণ এলাকার প্রান্তিক মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যেই বিধায়কের এই বিশেষ উদ্যোগ। এই পরিদর্শনের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলো নিয়ে দ্রুত আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী।
যদি এই পরিদর্শনের সূত্র ধরে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে হাসপাতালে জেনারেটর স্থাপন, অপারেশন থিয়েটার চালু এবং নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হয়, তবে মহেশগঞ্জ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ঘরের কাছেই আধুনিক ও নিরাপদ চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। এর ফলে একদিকে যেমন বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমবে, অন্যদিকে জরুরি অবস্থায় রোগীদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।