হাওড়া স্টেশনে মিথিলা এক্সপ্রেসে ধোঁয়া, অল্পের জন্য রক্ষা পেয়ে স্বস্তিতে যাত্রীরা

হাওড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা মিথিলা এক্সপ্রেসের একটি কামরায় আচমকা ধোঁয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্ক ছড়াল যাত্রীদের মধ্যে। মঙ্গলবার লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেনে ব্যস্ত এই স্টেশনে হঠাতই ট্রেনের সাধারণ কামরার শৌচাগার থেকে গলগল করে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। চোখের সামনে ধোঁয়া দেখে ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এবং অনেকেই তাড়াহুড়ো করে কামরা থেকে নিচে নেমে আসেন। ঘটনার খবর পেয়েই আরপিএফ, রেল পুলিশ এবং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দ্রুত তৎপরতার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
তৎপরতায় এড়ালো বড় বিপদ
রেল সূত্রের খবর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কামরাটি খালি করে দেওয়া হয়। প্রাথমিক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও রেলের ইঞ্জিনিয়ার ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আনে। হাওড়ার ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার ও জনসংযোগ আধিকারিক হরি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে বড় ধরনের কোনো আগুন লাগেনি, কেবল একটি অংশ থেকে ধোঁয়া দেখা গিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কামরার ভেতরের যে অংশটি থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছিল, সেটিকে কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলেও ঘটনার তদন্তে কোনো ফাঁক রাখছে না প্রশাসন। তল্লাশি ও প্রাথমিক তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে স্নিফার ডগ এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল এসে পৌঁছায়।
তদন্ত ও সম্ভাব্য কারণ
ঠিক কী কারণে এই ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা শুরু করেছেন। রেল কর্তৃপক্ষের ধারণা, শৌচাগারের ভেতরের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, শর্ট সার্কিট কিংবা কোনো যাত্রীর অসতর্কতার ফলেই এই ধোঁয়ার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। সম্পূর্ণ তদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে রেলের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে যেমন একটি বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তেমনই এই ঘটনা স্টেশনে যাত্রী সুরক্ষার পরিকাঠামোকে আরও একবার খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।