পঁচিশ বছর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, পিএম সূর্য ঘর প্রকল্পে বিপুল ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার

দেশজুড়ে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের বিদ্যুৎ বিলের বোঝা কমাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ যোজনা’-র আওতায় এখন অনায়াসেই বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসাতে পারছেন নাগরিকরা। এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণ হলো এতে সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের আর্থিক ভর্তুকি। সরকারি দাবি অনুযায়ী, এই উদ্যোগের সুফল পেলে প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিলের খরচ বাঁচানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারে এটি একটি বড় মাইলফলক।
ভর্তুকির অঙ্ক ও খরচের হিসাব
বর্তমানে খোলা বাজারে সোলার প্যানেল বসানোর খরচ প্রতি কিলোওয়াটে প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার কাছাকাছি। তবে পিএম সূর্য ঘর প্রকল্পের অধীনে সরকার মোট খরচের প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি সরাসরি প্রদান করছে। হিসেব অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম বসালে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাবেন। ২ কিলোওয়াট সিস্টেমের ক্ষেত্রে এই ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ হাজার টাকায়। আর কেউ যদি ৩ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার সিস্টেম বসাতে চান, তবে তিনি সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি অনুদান বা ভর্তুকি পেয়ে যাবেন।
খরচের তুলনামূলক চিত্রে দেখা গেছে, ১ কিলোওয়াট সোলার সিস্টেম বসাতে সাধারণ মানুষের খরচ হয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। ২ কিলোওয়াট এবং ৩ কিলোওয়াট সিস্টেমের জন্য যথাক্রমে প্রায় ১.৪০ লক্ষ এবং ১.৮০ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হয়। তবে সরকারি ভর্তুকির কারণে গ্রাহকদের পকেট থেকে প্রকৃত খরচের বড় একটা অংশই বেঁচে যাচ্ছে। বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন উত্তর প্রদেশের বাসিন্দারা, কারণ সেখানে কেন্দ্রীয় সুবিধার পাশাপাশি রাজ্য সরকার আরও অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি ঘোষণা করেছে।
কারণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
মূলত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব সৌরশক্তির প্রসার ঘটানোই এই প্রকল্পের প্রধান কারণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সাধারণ মানুষের মাসিক সঞ্চয় বাড়ানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার সোলার প্যানেল স্থাপন করলে তার কার্যকারিতা থাকে অন্তত ২৫ বছর। ফলে প্রাথমিক কিছু টাকা বিনিয়োগ করলেও পরবর্তী ২৫ বছর বিদ্যুৎ বিলের স্থায়ী সমাধান পেয়ে যাচ্ছেন গ্রাহকরা। এই প্রকল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটলে একদিকে যেমন দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। এককালীন খরচের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয় অনেক বেশি হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের মধ্যে এই প্রকল্প দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।