তাপপ্রবাহে লাগাম টানতে বড় পদক্ষেপ, সময়োপযোগী জাতীয় ‘কুলিং’ নীতিকে স্বাগত জানাচ্ছে দেশ

তাপপ্রবাহে লাগাম টানতে বড় পদক্ষেপ, সময়োপযোগী জাতীয় ‘কুলিং’ নীতিকে স্বাগত জানাচ্ছে দেশ

ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ এখন আর শুধুমাত্র ঋতুগত অস্বস্তির বিষয় নয়, এটি ক্রমশ এক গুরুতর জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। প্রতি বছর এ দেশে গরমের তীব্রতা যেমন বাড়ছে, তেমনই দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে তার প্রভাব। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ষোড়শ অর্থ কমিশন তাপপ্রবাহকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ হিসাবে চিহ্নিত করার যে দূরদর্শী সুপারিশ করেছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং স্বাগতযোগ্য। দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যাকে সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে যে বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, তা এখন স্পষ্ট।

এরই প্রেক্ষিতে ১৯ মে ২০২৬ মঙ্গলবার তাপপ্রবাহকে জাতীয় বিপর্যয় হিসাবে চিহ্নিত করার প্রস্তাবটি এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় তহবিলের পথ সুগম হবে। এত দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিচ্ছিন্নভাবে ‘হিট অ্যাকশন প্ল্যান’ কার্যকর করা হলেও তার বড় সীমাবদ্ধতা ছিল। পানীয় জলের স্টল, সতর্কবার্তা কিংবা বাস স্টপে সাময়িক ছাউনি মানুষের জীবন রক্ষা করলেও মূল সংকটকে স্পর্শ করতে পারেনি। কোটি কোটি মানুষ এখনও এমন ঘরে বাস করছে বা এমন কর্মস্থলে কাজ করছে, যেখানে গরমের তীব্রতা মানবদেহের স্বাভাবিক সহনশীলতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে এখন সময় এসেছে আরও বড়, সুসংহত এবং দীর্ঘমেয়াদি ভাবনার।

শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষা ও শীতলীকরণ নীতি

সংকট মোকাবিলায় একটি জাতীয় ‘কুলিং ডকট্রিন’ বা সর্বভারতীয় শীতলীকরণ নীতির ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঘরের তাপমাত্রাকে জনস্বাস্থ্যের মৌলিক অধিকারের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা আধুনিক ভারতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। বিশেষ করে কারখানা, গুদাম, কল সেন্টার, বাণিজ্যিক রান্নাঘর কিংবা ডেলিভারি হাবের মতো কর্মস্থলে ন্যূনতম শীতলীকরণ মান বাধ্যতামূলক করা হলে শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষা অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর সঙ্গে যদি স্বচ্ছ পরিদর্শন ব্যবস্থা যুক্ত হয়, তবে তা দেশের কর্মসংস্কৃতি ও শ্রমস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান

তবে মনে রাখতে হবে যে, এই সমাধান ভারতের নিজস্ব বাস্তবতার উপর ভিত্তি করেই গড়ে তুলতে হবে। ইউরোপ বা উন্নত পশ্চিমি দেশগুলির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ মডেল সরাসরি এখানে প্রয়োগ করা বাস্তবসম্মত হবে না। ভারতের গরম অনেক বেশি আর্দ্র, দীর্ঘস্থায়ী এবং শহরকেন্দ্রিক। আবার বিপুল সংখ্যক মানুষের পক্ষে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ বহন করাও সম্ভব নয়। তাই কম খরচে কার্যকর প্রযুক্তি, প্রতিফলক ছাদ, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের উপযোগী নির্মাণ, এবং শক্তি সাশ্রয়ী ‘কুলিং’-ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় এই নতুন নীতি, কেন্দ্রীয় সহায়তা এবং বাস্তবভিত্তিক কুলিং পরিকাঠামো তৈরির এই ভাবনা দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *