বাংলায় আসছে গোকুল মিশন, সস্তায় মিলবে দুধ ও কড়া পাহারায় বন্ধ হবে গরু পাচার

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বড় পরিবর্তনের হাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার রাজ্যের দুগ্ধ উৎপাদন বাড়াতে এবং গবাদি পশুর সুরক্ষায় বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নতুন সরকার। রাজ্যে দ্রুত চালু হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘গোকুল মিশন’। সম্প্রতি গোশালা মালিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
উদ্যোগের নেপথ্য কারণ ও মন্ত্রীর বার্তা
পূর্বে কেন্দ্রীয় সরকারের বহু প্রকল্প রাজ্যে থমকে থাকত বা বাস্তবায়িত হতো না। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো সরাসরি রাজ্যে রূপায়ণের পথ সুগম হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রাণিসম্পদ বিভাগের উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, দেশের প্রচলিত আইনকে সামনে রেখেই এই মিশন পরিচালনা করা হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের কাছে কম মূল্যে মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়া এবং গোমাতা পালনের পরিকাঠামো উন্নত করা। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়ে বেআইনি গো-হত্যা এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে গরু পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই সক্রিয় ভূমিকা পালন শুরু করেছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও কর্মসংস্থান
গোকুল মিশন চালুর ফলে রাজ্যের দুগ্ধ শিল্পে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রান্তিক খামারি ও গোশালা মালিকরা সরকারি সহায়তায় উন্নত প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ ও পঞ্চায়েত বিভাগে কাজের গতি বাড়াতে মন্ত্রী ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছেন। শূন্যপদ পূরণের এই সিদ্ধান্ত এবং গোকুল মিশনের যৌথ প্রভাবে একদিকে যেমন গ্রামীণ স্তরে বড় কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনই প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধির কারণে সীমান্ত এলাকায় গবাদি পশু পাচারের মতো বেআইনি কারবার চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব হবে।