হাওড়া স্টেশনে ট্রেনে আগুন থেকে সিবিআইয়ের বড় সাফল্য
একদিকে যখন ভ্যাপসা গরমে পুড়ছে দক্ষিণবঙ্গ, ঠিক তখনই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাওড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা দূরপাল্লার ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়াল যাত্রীদের মধ্যে। ডাউন মিথিলা এক্সপ্রেসের কামরা থেকে আচমকা ধোঁয়া বেরোতে দেখে স্টেশনে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে আরও এক মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)।
হাওড়া স্টেশনে চরম আতঙ্ক ও স্নিফার ডগের তল্লাশি
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাওড়া স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল ডাউন মিথিলা এক্সপ্রেস। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আচমকাই ট্রেনের দুটি বগির সংযোগস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে প্ল্যাটফর্ম ধোঁয়ায় ঢেকে গেলে যাত্রীদের মধ্যে প্রাণভয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ট্রেন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে বেশ কয়েকজন যাত্রী সামান্য চোট পান। খবর পেয়েই রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) ও কারিগরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধোঁয়া ছড়ানো কোচটিকে মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের পিছনে কোনো নাশকতার ছক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে স্নিফার ডগ এনে তল্লাশি চালানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ ত্রুটি থেকে এই বিপত্তি ঘটতে পারে, যা খতিয়ে দেখছে রেল কর্তৃপক্ষ।
বারাণসী থেকে চন্দ্রনাথ খুনের আসামী গ্রেপ্তার
শুভেন্দু অধিকারীর পিএ চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে বিনয় রাই ওরফে পাম্পুম নামে এক প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। ধৃত ব্যক্তি উত্তরপ্রদেশের গাজীপুর জেলার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই তিনি ভিন রাজ্যে গা-ঢাকা দিয়ে ছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সিবিআই-এর একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় সিজিএম আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হচ্ছে। এই গ্রেপ্তারের ফলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল ষড়যন্ত্রকারী ও আসল কারণ উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
দক্ষিণবঙ্গে অসহনীয় গরম ও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও রেলের এই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির মাঝেই আবহাওয়া দপ্তর দক্ষিণবঙ্গের জন্য নতুন উদ্বেগের খবর শুনিয়েছে। চড়া রোদ আর বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কারণে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ভ্যাপসা গরম ও গুমোট পরিস্থিতি বজায় থাকবে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর ছুঁয়ে ফেলতে পারে, যা কার্যত এক তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে। দুপুরের দিকে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ এই চরম আবহাওয়া জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।