সাদা ভাত কি তবে ইতিহাস! শরীরের মেদ গলাতে কেন কদর বাড়ছে বেগনি চালের

সাদা ভাত কি তবে ইতিহাস! শরীরের মেদ গলাতে কেন কদর বাড়ছে বেগনি চালের

স্বাস্থ্য সচেতনতার দৌলতে চিরপরিচিত সাদা ভাত এখন অনেকের পাত থেকেই ব্রাত্য হতে বসেছে। তরুণ প্রজন্মের এক বড় অংশ যখন কার্বোহাইড্রেটের খনি হিসেবে পরিচিত পলিশ করা সাদা ভাত থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন, ঠিক তখনই সুপারশপগুলোর তাকে জায়গা করে নিচ্ছে অন্য রঙের চাল। ইদানীং স্বাস্থ্য সচেতনদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে এমন একটি চাল, যা দেখতে সাদা নয়, বরং গাঢ় বেগনি বা কালো। পুষ্টিবিদদের মতে, এই বেগনি চাল পুষ্টিগুণের দিক থেকে সাদা চালকে অনায়াসেই টেক্কা দিতে পারে।

পুষ্টির খনি এই ‘ফরবিড্‌ন রাইস’

সাধারণত ‘ফরবিড্‌ন রাইস’ বা কালো চাল নামে পরিচিত এই চালের গাঢ় রঙের পেছনে রয়েছে ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। প্রক্রিয়াকরণের সময় সাদা চালের ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে, বেগনি চাল খুব বেশি প্রক্রিয়াজাত করা হয় না বলে এর পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে। সাদা চালের তুলনায় এই চালে অতিরিক্ত ফাইবার, স্বল্পমাত্রায় প্রোটিন, প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, আয়রন এবং প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো কোষের বার্ধক্য প্রতিরোধ করতে এবং শরীরের যেকোনো প্রদাহ ও বিপাকজনিত গোলযোগ দূর করতে সরাসরি সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও হার্টের সুরক্ষা

সাদা চালে থাকা সিম্পল কার্বোহাইড্রেট দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বেগনি চালে ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় এটি রক্তে চটজলদি শর্করা বাড়তে দেয় না। ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও টাইপ-২ ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে এটি দারুণ কার্যকরী। এছাড়া এই চালের ফাইবার উপাদান শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রেখে ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

লাইফস্টাইল পরিবর্তনই আসল সমাধান

পুষ্টিবিদদের মতে, পুষ্টিগুণের দিক থেকে বেগনি বা কালো চাল অবশ্যই সাদা চালের চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর এবং উপকারী। তবে কেবল ভাতের চাল পরিবর্তন করলেই রাতারাতি সব শারীরিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কিংবা হার্ট ভালো রাখার জন্য চাল বদলানোর পাশাপাশি পরিমিত খাদ্যগ্রহণ, সুষম জীবনযাপন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা সমভাবেই জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *