এবার খুলবে জিটিএ ফাইলস, উত্তরবঙ্গে নেমেই পাহাড়ে ‘সাফাই অভিযানে’র বড় হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

স্টাফ রিপোর্টার: উত্তরবঙ্গের মাটিতে পা রাখতেই পাহাড়ি রাজনীতি ও প্রশাসনে বড়সড় আলোড়ন ফেলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়িতে নেমেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) বিগত আমলের সমস্ত কাজের খতিয়ান এবার খতিয়ে দেখা হবে। তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএ-র অধীনে কী কাজ হয়েছে এবং কীভাবে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, তার ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর দুর্নীতি দমনে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে জিটিএ গঠিত হলেও বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে অনীত থাপা ও বিনয় তামাংদের কার্যকালে সেখানে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ তুলছিল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, উন্নয়নের নামে কেবল প্রচার চালানো হয়েছে, বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এবার ক্ষমতায় এসেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে সেইসব ধামাচাপা পড়া ফাইল পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিতে চলেছে।
নজরে উত্তরকন্যা এবং আগামী দিনের প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকও উত্তরকন্যায় গিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র খতিয়ে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বহু ক্ষেত্রে কেবল ‘কাগজ-কলমে’ কাজ হয়েছে দেখে তিনি একাধিক ঠিকাদার সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত বা ব্ল্যাকলিস্ট করার নির্দেশ দেন। প্রশাসনকে গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে মন্ত্রী এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে একদিন উত্তরকন্যায় বসবেন বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনের পর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুংও জিটিএ-তে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্য সরকারের এই কড়া অবস্থানের কারণে পাহাড়ের প্রাক্তন শাসক ও আমলাদের ওপর চাপ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল। জিটিএ-র ফাইল খোলার এই সিদ্ধান্ত পাহাড়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে কতটা কার্যকর হয় এবং এর ফলে পাহাড়ি রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার।