প্রোটিন পাউডার খেলেই পেট ব্যথা! কেনার সময় এই ভুলগুলি করছেন না তো?

আজকাল ফিটনেস সচেতন মানুষদের মধ্যে জিম জয়েন করা এবং ডায়েটে প্রোটিন পাউডার যোগ করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই দেখা দেখি দামি সাপ্লিমেন্ট কিনে নিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু উপকারের চেয়ে অপকারই হচ্ছে বেশি। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা দিচ্ছে মারাত্মক হজমের সমস্যা ও পেট ব্যথা। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রোটিন পাউডার কেনার সময় বা খাওয়ার শুরুতে কিছু সাধারণ নিয়মের অভাবই এই শারীরিক সমস্যার মূল কারণ।
হজমের সমস্যা ও অনভ্যাস
দীর্ঘদিন ধরে যারা প্রোটিন পাউডার খেয়ে অভ্যস্ত নন, তারা যদি হুট করে বিপুল পরিমাণে এটি গ্রহণ করতে শুরু করেন, তবে শরীর তা সহজে নিতে পারে না। বিশেষ করে নিরামিষভোজী মানুষদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এই ধরনের আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে স্বাভাবিকভাবেই পেটে ব্যথা বা হজমের গোলমাল দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা তাই পরামর্শ দিচ্ছেন, তাড়াহুড়ো না করে মাত্র এক স্কুপ দিয়ে শুরু করা উচিত। শরীর যখন এই নতুন অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নেবে, তখন ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।
ফাইবার ও জলের ভারসাম্য
খাদ্যতালিকায় আচমকা প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে গেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ফেঁপে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি এড়াতে প্রোটিনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ফাইবারের উপস্থিতি জরুরি। প্রোটিন পাউডার খাওয়ার পাশাপাশি দৈনিক ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজি, ডাল ও বাদাম রাখা আবশ্যক। একই সঙ্গে শরীরে জলের ঘাটতি মেটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি ১০০ গ্রাম প্রোটিন সঠিকভাবে হজম করার জন্য শরীরকে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার জল সরবরাহ করতে হয়, অন্যথায় লিভার ও পাকস্থলীর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
প্রাকৃতিক খাবারের গুরুত্ব
কোনো সাপ্লিমেন্ট ফুডই কখনও অরগ্যানিক বা প্রাকৃতিক খাবারের বিকল্প হতে পারে না। কোনো খাবারে রাতারাতি শরীর পরিবর্তনের ম্যাজিক থাকে না। তাই সুস্থ থাকতে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ এবং ড্রাই ফ্রুটসের মতো প্রাকৃতিক উৎসের ওপরই প্রধানত নির্ভর করা উচিত। নিরামিষভোজীরা প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে পনির, টোফু, সোয়াবিন ও মুসুরির ডাল খেতে পারেন। দ্রুত পেশি গঠন বা প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে সাপ্লিমেন্টের শরণাপন্ন হওয়ার আগে একজন অভিজ্ঞ ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, যাতে ভুল নিয়মে শরীর খারাপের ঝুঁকি এড়ানো যায়।