কয়লা ও গরুর পর এবার বালি পাচার! ইডির জালে খাস সরকারি আমলা

কয়লা ও গরুর পর এবার বালি পাচার! ইডির জালে খাস সরকারি আমলা

কয়লা এবং গরু পাচারের পর এবার বালি পাচার মামলায় তৎপরতা বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ঝাড়গ্রামে বালি পাচারের সিন্ডিকেট এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক নয়ছয়ের তদন্তে এবার সরাসরি এক উচ্চপদস্থ সরকারি আমলাকে তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বুধবার সকালে ইডির ডাকে সাড়া দিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন ঝাড়গ্রামের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা শাসক (এডিএম) তথা ডব্লিউবিসিএস অফিসার আনসার শেখ। ইডির সিজিও কমপ্লেক্স সূত্রে খবর, ঝাড়গ্রামে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা জানতেই এই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

নেপথ্যের কারণ ও দুর্নীতির জাল

ইডির এফআইআর এবং প্রাথমিক তদন্তের সূত্র অনুযায়ী, আনসার শেখ যখন ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলা শাসক পদে কর্মরত ছিলেন, সেই সময়ই ওই এলাকার বিভিন্ন নদীখাত থেকে দেদার বালি লুঠ ও পাচার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, লাইসেন্স ছাড়া বা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নদী থেকে বালি তোলার ক্ষেত্রে প্রশাসনের একশ্রেণীর কর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অফিসারদের স্ক্যানারে বর্তমানে সেই সময়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র রয়েছে। এর আগে ঝাড়গ্রাম এবং সংলগ্ন জেলাগুলোতে বালি পাচারের তদন্তে নেমে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিলেন ইডির গোয়েন্দারা। সেই সময় বাজেয়াপ্ত হওয়া ডিজিটাল নথি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই আমলার বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ডব্লিউবিসিএস অফিসার

আনসার শেখ বর্তমানে মালদা জেলা পরিষদের এডিএম পদে কর্মরত। তবে তাঁর এই বিতর্ক শুধু ঝাড়গ্রামের বালিকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি মালদার মোথাবাড়িতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর হামলার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে, যার জেরে রাজ্য প্রশাসনের তরফে এই আমলাকে শোকজও করা হয়েছিল। ফলে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি প্রশাসনের অন্দরে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন।

সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, একজন উচ্চপদস্থ আমলাকে এভাবে ইডির তলব এবং জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই জিজ্ঞাসাবাদের ফলে বালি পাচারের লভ্যাংশ কোন কোন প্রভাবশালীর পকেটে গেছে কিংবা প্রশাসনের আর কোন কোন বড় মাথা এর পেছনে জড়িয়ে রয়েছে, সেই জট কাটতে পারে। একইসঙ্গে বালি সিন্ডিকেটের মূল চাঁইদের কাছে পৌঁছানোর পথও তদন্তকারীদের জন্য সহজ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *