কলকাতার বুকে পাকিস্তানি গুপ্তচর চক্রের পর্দাফাঁস, এনআইএর জালে মূল পাণ্ডা!

কলকাতার বুকে বসে পাকিস্তান সীমান্তের ওপারে দেশের অত্যন্ত গোপনীয় নিরাপত্তা তথ্য পাচারের এক ভয়ঙ্কর চক্রান্ত বানচাল করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বুধবার গোপন সূত্রে অভিযান চালিয়ে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জাফর রিয়াজ ওরফে রিজভী নামে এক ব্যক্তিকে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রিজভী সরাসরি পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হয়ে এ দেশে গুপ্তচরবৃত্তির জাল বিছিয়েছিল। ধৃতের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি লুকআউট সার্কুলার জারি ছিল এবং তাকে ‘পলাতক’ ঘোষণার আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীনই হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
অর্থ ও নাগরিকত্বের লোভেই দেশদ্রোহিতার ছক
তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃত রিজভী ২০০৫ সাল থেকেই নিয়মিত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যাতায়াত করতেন। তিনি একজন পাকিস্তানি মহিলাকে বিয়ে করেছেন এবং তাঁর সন্তানেরাও সে দেশেরই নাগরিক। পাকিস্তান সফরকালেই সে দেশের গোয়েন্দা কর্তাদের ফাঁদে পড়েন রিজভী। মূলত বিপুল অর্থ এবং পাকিস্তানি নাগরিকত্বের প্রলোভন দেখিয়েই তাঁকে ভারতের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল। এর আগেও একবার গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এই ব্যক্তি।
ওটিপি পাচার ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের হদিশ
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, এই চক্রের শিকড় আন্তর্জাতিক স্তরে বিস্তৃত। ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে রিজভী এক পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে বেশ কিছু ভারতীয় মোবাইল নম্বরের ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) সরবরাহ করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই ওটিপি ব্যবহার করে এ দেশেই কিছু ভুয়ো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হয়। এই গোপন অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে মোতিরাম জাঠ নামে অপর এক অভিযুক্তের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হতো, যার বিরুদ্ধেও পাকিস্তানের কাছে দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তি নেটওয়ার্ক এবং এর পেছনে থাকা বৃহত্তর দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের মূল উৎপাটন করতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে এনআইএ।