ইভিএম কারচুপির জেরে নজিরবিহীন পদক্ষেপ, কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে ফলতায় চলছে ভোটগ্রহণ!

গত এপ্রিল মাসের নজিরবিহীন ইভিএম কারচুপির ক্ষত ভুলে আজ কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়েছে পুনর্নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোটাররা। গত ২৯ এপ্রিলের মূল নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট লুটের অভিযোগে পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করেছিল কমিশন। এবার আর কোনো রকম খামতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করতে রাজি নয় রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। আগামী ২৪ মে এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রের ভোটগণনা সম্পন্ন হবে।
দ্বিগুণ কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রযুক্তির কড়া নজরদারি
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে এবার ফলতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, গত মূল ভোটের দিন যেখানে বুথ পিছু মাত্র ৪ জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল, এবার তা এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ৮ জন করা হয়েছে। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ২৮৫টি বুথের জন্য প্রায় ৩৫ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অশান্তি রুখতে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি এবার প্রযুক্তির মাধ্যমেও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি বুথের ভেতরে দুটি এবং বাইরে একটি করে ওয়েব ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার সরাসরি লাইভ ওয়েবকাস্টিং জেলা ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিস থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ড্রোন নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকি করার জন্য ৩ জন বিশেষ নির্বাচন পর্যবেক্ষককে নিয়োগ করা হয়েছে।
তৃণমূল প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো ও রাজনৈতিক সমীকরণ
ভোট শুরুর আগেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। পুলিশি অভিযানে ইতিমধ্যেই ফালতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুল খানসহ বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ভোটের মাঠে সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে গত মঙ্গলবার, যখন এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান আচমকা ভোট ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। শাসক দল তৃণমূল একে তাঁর ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’ বলে উল্লেখ করলেও, ভোট ময়দানে বিজেপির প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে তৃণমূলের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে।
কেন এই পুনর্নির্বাচন
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফলতার একাধিক বুথ থেকে ইভিএমের বোতামে সেলোটেপ এবং সুগন্ধি লাগিয়ে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। তৎকালীন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত স্বয়ং এলাকা পরিদর্শন করে প্রায় ৬০টি বুথে ইভিএম টেম্পারিং বা কারচুপির প্রমাণ পান। এছাড়া বুথের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়েবকাস্টিংয়ের ফুটেজও নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং পোলিং অফিসারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এরই প্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুরো ফালতা কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে সমস্ত বুথেই আজ পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। এই কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারির প্রভাব আগামী ২৪ মে-র ভোটগণনার ফলাফলে কেমন প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।