অনুমতি ছাড়া ভিডিও ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনের ফাঁদ! ভুয়ো প্রচারে ক্ষুব্ধ আর মাধবন পাঠালেন আইনি নোটিশ

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনের ফাঁদ! ভুয়ো প্রচারে ক্ষুব্ধ আর মাধবন পাঠালেন আইনি নোটিশ

সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের নাম ও ভিডিও ব্যবহার করে ভুয়ো প্রচারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এবার এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা আর মাধবন। অনুমতি ছাড়া তাঁর একটি পুরনো সাক্ষাৎকারের অংশ কেটে নিজেদের পণ্যের প্রচারে ব্যবহার করার অভিযোগে একটি নামী ওয়েলনেস ব্র্যান্ডকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন অভিনেতা। একই সঙ্গে এই ধরনের প্রতারণামূলক ফাঁদ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সাক্ষাৎকার বিকৃতির নেপথ্যে

ঘটনার সূত্রপাত মূলত ২০২৪ সালের একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। ‘রকেট্রি: দ্য নাম্বি ইফেক্ট’ ছবির স্বার্থে আমূল শারীরিক পরিবর্তনের পর মাধবন একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর ওজন কমানোর নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, কোনও কৃত্রিম পদ্ধতি ছাড়াই কেবল ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন, সঠিক সময়ে আহার ও পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে তিনি নিজেকে ফিট রেখেছিলেন।

অভিযুক্ত ওয়েলনেস ব্র্যান্ডটি অভিনেতার সেই বক্তব্যের অংশটি কেটে নিজেদের প্রচারমূলক ভিডিওতে জুড়ে দেয়। ভিডিওর পরের অংশে একজন তথাকথিত ‘ডাক্তার’ এনে এমনভাবে সম্পাদনা করা হয়, যাতে দর্শকদের মনে হয় মাধবনের এই ওজন কমানোর পেছনে ওই সংস্থার পণ্য বা পরিষেবার ভূমিকা রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মাধবন লেখেন, অন্য কারও সাক্ষাৎকারের অংশ কেটে অনুমতি ছাড়া ব্র্যান্ডের প্রচারে ব্যবহার করা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও গ্রহণযোগ্য নয়।

তারকাদের নাম ভাঁড়ানোর প্রভাব ও উদ্বেগ

ডিজিটাল দুনিয়ায় তারকাদের জনপ্রিয়তা পুঁজি করে সাধারণ ক্রেতাদের আকর্ষণ করার এই কৌশল বিনোদন ও করপোরেট মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, কেবল আর মাধবনই নন, একই ধরনের ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর প্রচারে নির্মাতা করণ জোহর এবং অভিনেতা রাম কাপুরের পুরনো সাক্ষাৎকারের অংশও অনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

এই ধরনের প্রচারের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে ভুল পণ্য বা চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নেওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন, অন্যদিকে তারকাদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এই ঘটনার পর আইনি সুরক্ষা এবং ডিজিটাল কনটেন্টের কপিরাইট আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *