ভোটের মুখে ফলতায় ‘গৃহদাহ’, জাহাঙ্গিরের ময়দান ছাড়ায় ক্ষুব্ধ দলের বিধায়কেরাই!

ভোটের মুখে ফলতায় ‘গৃহদাহ’, জাহাঙ্গিরের ময়দান ছাড়ায় ক্ষুব্ধ দলের বিধায়কেরাই!

ফলতা বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে হঠাৎ ‘বাহুবলি’ নেতা জাহাঙ্গির খানের ময়দান ছাড়ার ঘোষণায় তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে জাহাঙ্গিরের এই আকস্মিক দলবদল বা নিষ্ক্রিয়তার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে হওয়া বৈঠকে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

নেপথ্যের কারণ ও নেতৃত্বের ক্ষোভ

একের পর এক অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ফলতা বিধানসভার আগের ভোট বাতিল করে নতুন করে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিল। সেই অনুযায়ী ভোটগ্রহণ চললেও, ঠিক তার আগে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেকে সরিয়ে নেন জাহাঙ্গির। এর কারণ হিসেবে তিনি ফলতার মানুষের শান্তি রক্ষার কথা বললেও, দলের একাংশের দাবি এটি আসলে পরাজয় স্বীকার এবং বিরোধী শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত। বিধায়ক সন্দীপন সাহা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, জাহাঙ্গিরের এই ধরনের কার্যকলাপ দলকে চরম লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে। জনপ্রিয় সিনেমা ‘পুষ্পা’র সংলাপ টেনে তাঁর প্রশ্ন, নিজেকে যিনি ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করতেন, তিনি আচমকা কেন ঝুঁকে গেলেন এবং লড়াইয়ের আগেই ময়দান ছাড়লেন।

মনোবল ভাঙার আশঙ্কা ও সম্ভাব্য প্রভাব

নতুন সরকার গঠনের পর ফলতার এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচার শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জাহাঙ্গিরের মতো প্রভাবশালী নেতার এমন সিদ্ধান্ত বুথ স্তরের কর্মীদের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে পারে। যেখানে ফলতায় জাহাঙ্গির খানের একচ্ছত্র আধিপত্য চলত, সেখানে তাঁর এই ‘পলায়নমনোবৃত্তি’ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে বলে মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। একদিকে সন্দীপন সাহা যেমন এই আচরণের জন্য জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে কুণাল ঘোষও জাহাঙ্গিরের তৈরি করা তথাকথিত ‘ভয়ের পরিবেশ’ এবং তাঁর হঠাৎ পিছু হটার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে জাহাঙ্গিরের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও, ভোটের ময়দানে এর বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *