ডিসেম্বরেই ফুরোচ্ছে ৩০ বছরের ঐতিহাসিক চুক্তির মেয়াদ, জলবণ্টন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ফরাক্কা ও কলকাতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল

ডিসেম্বরেই ফুরোচ্ছে ৩০ বছরের ঐতিহাসিক চুক্তির মেয়াদ, জলবণ্টন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ফরাক্কা ও কলকাতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল

ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু গঙ্গার জলবণ্টন। আর সেই ঐতিহাসিক চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এবার সরাসরি ভারতে আসছে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের মেগা প্রতিনিধি দল। আগামী ২০ থেকে ২৩ শে মে— চার দিনের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সফরে ওপার বাংলার ৬ জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল কলকাতায় পা রাখছে। ইন্দো-বাংলাদেশ জয়েন্ট রিভার কমিশনের (JRC) এই বিশেষ সফরটি ছাব্বিশের মে মাসে দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এক বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

মহম্মদ আনোয়ার কাদিরের নেতৃত্বে আসছে ৬ জনের প্রতিনিধি দল, ফোকাসে ফরাক্কা

বাংলাদেশ সরকারের জলসম্পদ মন্ত্রকের অভিজ্ঞ আধিকারিক মহম্মদ আনোয়ার কাদিরের নেতৃত্বে এই ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি ভারতে আসছে। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী চার দিন তাঁরা কলকাতায় ভারতীয় প্রতিনিধিদের সাথে দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন। এটি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (Joint River Commission) ৮৬তম বৈঠক হতে চলেছে।

শুধুমাত্র কলকাতার টেবিলে বৈঠক করাই নয়, এই সফরের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে ফরাক্কা ব্যারেজ পরিদর্শন:

  • সরেজমিনে তদন্ত: বাংলাদেশের এই প্রতিনিধি দলটি সরাসরি ফরাক্কায় গিয়ে গঙ্গার বর্তমান জলপ্রবাহ এবং জলবণ্টনের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে।
  • যৌথ সমীক্ষা: গরমের মরসুমে গঙ্গার জলস্তর কতটা কমছে বা বাড়ছে এবং দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী জল ঠিকঠাক বণ্টন হচ্ছে কি না, তা ওপার বাংলার প্রতিনিধিরা সরেজমিনে পরিমাপ করবেন।

কেন এই সফরকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলছে কূটনৈতিক মহল?

এই সফরের নেপথ্যে রয়েছে এক মস্ত বড় আইনি ও কূটনৈতিক ডেডলাইন। বিগত ১৯৯৬ সালে তৎকালীন ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি’ (1996 Ganga Water Sharing Treaty) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘ তিন দশকের সেই মেগা চুক্তির মেয়াদ এই বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসেই সম্পূর্ণ শেষ হতে চলেছে।

চুক্তির মেয়াদ ফুরানোর মাত্র কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের এই প্রতিনিধি দলের ফরাক্কা সফরকে তাই রুটিন বৈঠক হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা:

  • নতুন চুক্তির রূপরেখা: এই সফরে ফরাক্কার জলপ্রবাহের যে বাস্তব রিপোর্ট উঠে আসবে, তার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে এই জলবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ (Renewal) বা নতুন কোনো চুক্তিপত্রের খসড়া তৈরি হবে।
  • শুভেন্দু সরকারের অবস্থান: রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের নদীগুলির জলবণ্টন নিয়ে নবান্নের অবস্থানও এই চুক্তির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যখন দিল্লির অলিন্দ থেকে শুরু করে নবান্ন পর্যন্ত প্রশাসনিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে, ঠিক তখনই ফরাক্কার জল নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক আগামী দিনে দুই প্রতিবেশী দেশের মৈত্রী ও ভূ-রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *