‘আমরা-ওরা করে ৫ বছর নষ্ট হয়েছে, প্রশাসনিক বৈঠকে থাকবেন বিরোধীরাও’, উত্তরবঙ্গে শাসক-বিরোধী ঐক্যের মেগা বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

‘আমরা-ওরা করে ৫ বছর নষ্ট হয়েছে, প্রশাসনিক বৈঠকে থাকবেন বিরোধীরাও’, উত্তরবঙ্গে শাসক-বিরোধী ঐক্যের মেগা বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন পরিবর্তনের সূচনা করলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার উত্তরবঙ্গের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এবার থেকে সমস্ত সরকারি ও প্রশাসনিক বৈঠকে শাসক দলের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলির জনপ্রতিনিধিদেরও সমমর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হবে। বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় ‘আমরা-ওরা’ রাজনীতির যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা ঝেড়ে ফেলে এক নতুন ‘সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো’র (Cooperative Federalism) বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিগত জমানার বঞ্চনার রাজনীতির অবসান, তোপ শুভেন্দুর

উত্তরবঙ্গের এই মেগা প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বিদায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অতীতে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিজেপি-র বিধায়ক ও সাংসদদের যেভাবে রাজ্যের প্রশাসনিক বৈঠকগুলি থেকে সুপরিকল্পিতভাবে দূরে সরিয়ে রাখা হতো, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন:

“বিগত সরকারের জমানায় প্রশাসনিক বৈঠকগুলিকে একপ্রকার দলীয় কর্মসূচিতে পরিণত করা হয়েছিল। বিরোধী দলের বিধায়ক বা জনপ্রতিনিধিদের সেখানে ডাকাই হতো না। এই ধরনের নোংরা ‘আমরা-ওরা’ রাজনীতি করে বাংলার মূল্যবান ৫টি বছর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। কিন্তু আমাদের সরকার এই বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। উন্নয়ন সবার জন্য, তাই এবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের বিধায়কদেরও সসম্মানে ডাকা হবে।”

উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে এক টেবিলে শাসক-বিরোধী

নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণবঙ্গ— যেকোনো অঞ্চলের মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত বিধায়কের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি, তিনি যে দলেরই হোন না কেন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে যখন কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার বুলডোজার নোটিশ জারি হচ্ছে, অন্যদিকে চণ্ডীপুরের তৃণমূল নেতা সোহম চক্রবর্তী খোদ শুভেন্দুর প্রশাসনিক কর্মপদ্ধতির প্রশংসা করে ‘অভিভূত’ হচ্ছেন— ঠিক সেই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ঐক্যের বার্তা’ অত্যন্ত মাস্টারস্ট্রোক। এর ফলে একদিকে যেমন সুজিত বসু, দেবরাজ চক্রবর্তীদের গ্রেফতারির পর তৈরি হওয়া ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র তত্ত্বকে এক ধাক্কায় খারিজ করে দেওয়া গেল, ঠিক তেমনই আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ধর্ণায় বসা তৃণমূলের অবশিষ্ট বিধায়কদেরও একপ্রকার প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন দেখার, শুভেন্দু সরকারের এই সর্বদলীয় প্রশাসনিক ডাককে স্বাগত জানিয়ে তৃণমূলের বিধায়কেরা বৈঠকে যোগ দেন নাকি দূরত্ব বজায় রাখেন।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *