ইউটিউবে বিচার বিভাগকে আক্রমণ, দিল্লির ইউটিবার গুলশন পহুজাকে ছ’মাসের কারাদণ্ড দিল হাই কোর্ট

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাক-স্বাধীনতার অপব্যবহার এবং বিচার ব্যবস্থার গরিমা ক্ষুণ্ণ করার বিরুদ্ধে এবার এক নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ করল দিল্লি হাই কোর্ট (Delhi High Court)। একটি নির্দিষ্ট ইউটিউব চ্যানেলে দেশের বিচার বিভাগ ও বিচারপতিদের নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে গুলশন পহুজা (Gulshan Pahuja) নামের এক ইউটিউবারকে সরাসরি ছ’মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সাথে তাঁকে ২০০০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
ছাব্বিশের মে মাসে যখন দেশে সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট এবং ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারদের আইনি পরিধি নিয়ে জোর চর্চা চলছে, ঠিক তখনই উচ্চ আদালতের এই রায় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এক বিরাট ও কড়া বার্তা বলে মনে করছে আইনি মহল।
‘ফাইটিং ফর জুডিশিয়াল রিফর্মস’ চ্যানেলে অবমাননাকর মন্তব্য
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গুলশন পহুজা ‘ফাইটিং ফর জুডিশিয়াল রিফর্মস’ (Fighting for Judicial Reforms) নামের একটি নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল চালাতেন। অভিযোগ, আইনি সংস্কারের নাম করে ওই চ্যানেলের একাধিক ভিডিওতে তিনি ভারতের বিচার বিভাগ, আদালত এবং বিচারপতিদের সততা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর এবং অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন।
বিষয়টি নজরে আসার পরেই আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত অবমাননার (Contempt of Court) মামলা রুজু হয়। দীর্ঘ শুনানি এবং তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখার পর দিল্লি হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, গঠনমূলক সমালোচনা স্বাগত হলেও, বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দেওয়ার এই কুৎসিত প্রচেষ্টা কোনোভাবেই বাক-স্বাধীনতার আওতায় পড়ে না।
দণ্ডাদেশ ৬০ দিনের জন্য স্থগিত, সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগ
গুলশন পহুজাকে ছ’মাসের জেলের নির্দেশ দেওয়া হলেও, আইন অনুযায়ী তাঁকে উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য একটি সুযোগ দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছে:
- ৬০ দিনের স্বস্তি: পহুজাকে এই সাজা পুনর্বিবেচনা বা চ্যালেঞ্জ করার জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হওয়ার আইনি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
- আপিল করার সময়সীমা: সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার এই প্রক্রিয়ার স্বার্থেই হাই কোর্ট তাদের দেওয়া ছ’মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশটি আগামী ৬০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত (Stay Order) রেখেছে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজমাধ্যমে লাইক, ভিউ এবং ফলোয়ার বাড়ানোর চক্করে অনেকেই ইদানীং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিশানা করছেন। নতুন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় যখন রাজ্যজুড়ে পুলিশি ও আইনি নজরদারি অত্যন্ত কড়া করা হয়েছে, ঠিক তখনই দিল্লির এই হাই-প্রোফাইল সাজা স্পষ্ট করে দিল যে, ইন্টারনেটের দুনিয়ায় বসে দেশের বিচার বিভাগকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করলে তার পরিণতি কতটা মারাত্মক হতে পারে। এখন দেখার, হাই কোর্টের এই সাজার বিরুদ্ধে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে কোনো স্বস্তি পান কিনা এই ইউটিউবার।