‘২০০৯ থেকে পাহাড় ও উত্তরবঙ্গ আমাদের জায়গা দিয়েছে, এবার ঋণ শোধের পালা’, প্রতি সপ্তাহে উত্তরকন্যায় মন্ত্রীর বসার মেগা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সফর থেকে একের পর এক বড় ঘোষণা ও কাটমানি-সিন্ডিকেটমুক্ত প্রশাসনের বার্তা দেওয়ার পর, এবার উত্তরবঙ্গের মানুষের ক্ষোভ ও আবেগ প্রশমনে আরও এক ঐতিহাসিক প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ছাব্বিশের মসনদ দখলের নেপথ্যে উত্তরবঙ্গের মানুষের যে এক বিরাট অবদান রয়েছে, তা প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় স্বীকার করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সাথে, কলকাতার ‘নবান্ন’ (Nabanna) সংস্কৃতির বাইরে বেরিয়ে উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দফতর ‘উত্তরকন্যা’ (Uttarkanya)-কে পুরোদমে সচল করার জন্য এক অভিনব প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করলেন তিনি।
২০০৯ সাল থেকে দেওয়া ভালোবাসার ঋণ শোধ করবে বিজেপি: মুখ্যমন্ত্রী
বুধবার উত্তরবঙ্গের হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠক থেকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণকে এক সুতোয় বেঁধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
“২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত— পাহাড় থেকে সমতল, গোটা উত্তরবঙ্গের মানুষ বরাবরই বিজেপি-কে উজাড় করে আশীর্বাদ করেছেন, জায়গা দিয়েছেন। এবার আমাদের ঋণ শোধ করার পালা। উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রতিটি ছোট-বড় স্বপ্নপূরণ করবে আমাদের এই নতুন সরকার। আমরা শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন করতে আসিনি, আমরা চেয়েছি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হোক। এটা আমজনতার সরকার, তাই জনগণের সুবিধা-অসুবিধাই শেষ কথা।”
প্রতি সপ্তাহে ‘উত্তরকন্যা’য় বসবেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী, চালু হচ্ছে গণ-শুনানি
উত্তরবঙ্গের মানুষকে কাজের জন্য যাতে আর বারবার কলকাতায় ছুটে যেতে না হয়, তার জন্য এক দুর্দান্ত বিকেন্দ্রীকরণ মডেলের (Decentralised Governance) ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
- সরাসরি অভাব-অভিযোগ শ্রবণ: এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী খোদ ‘উত্তরকন্যা’র দফতরে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন।
- জনতার দরবার: মন্ত্রী সেখানে বসে সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হবেন, তাঁদের অভাব-অভিযোগ, পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমস্যা এবং দাবিদাওয়া শুনবেন এবং অন-স্পট সমাধানের চেষ্টা করবেন।
- কলকাতা নির্ভরতা হ্রাস: উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির সরকারি ফাইল ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ মেটানোর কাজ এবার থেকে কলকাতার নবান্ন বা মহাকরণের ভরসায় ফেলে না রেখে, উত্তরকন্যা থেকেই দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নের কেন্দ্রে উত্তরবঙ্গ, চাপে ঘাসফুল শিবির
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই চাল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। একদিকে যখন তিনি জুনে মহিলাদের বাসে নিখরচায় যাতায়াতের জন্য ‘পিংক কার্ড’ আনার তোড়জোড় করছেন, অন্যদিকে পাহাড়ের জিটিএ (GTA) নিয়োগ দুর্নীতির ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূলপন্থী গোর্খা নেতাদের কোণঠাসা করছেন। তার ওপর ‘উত্তরকন্যা’কে সাধারণ মানুষের জন্য এভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় বিজেপির রাজনৈতিক ভিতকে আরও মজবুত করবে। বিগত জমানায় দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গ যেভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠত, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর সেই বঞ্চনার তকমা পুরোপুরি মুছে ফেলার মরিয়া চেষ্টা শুরু করল ছাব্বিশের নতুন সরকার।