‘জিটিএ-র নিয়োগ দুর্নীতির ফাইল এবার খোলা হবে’, পাহাড়ে মেগা ‘সাফাই অভিযান’-এর হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূল জমানার একাধিক দুর্নীতির তদন্তে যখন সাঁড়াশি চাপ তৈরি করেছে নতুন প্রশাসন, ঠিক তখনই এবার নজর ঘুরল উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে। বুধবার উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে শাসক-বিরোধী ঐক্যের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ (GTA)-র অন্দরে চলা পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি নিয়ে এক মারাত্মক হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শুরু করার পরেই জিটিএ-র সমস্ত নিয়োগ দুর্নীতির ফাইল নতুন করে খোলা হবে এবং এর নেপথ্যে থাকা কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
এর আগে সমতলে দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারি কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার বুলডোজার নোটিশের পর, এবার পাহাড়ের জিটিএ-কে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘সাফাই অভিযান’-এর বার্তা ছাব্বিশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
মমতা সরকারের আমলে ধামাচাপা দেওয়া দুর্নীতি এবার স্ক্যানারে
বিরোধী আসনে থাকার সময় থেকেই পাহাড়ের জিটিএ-র রন্ধ্রে রন্ধ্রে চলা স্বজনপোষণ এবং টাকার বিনিময়ে বেআইনি নিয়োগ নিয়ে সরব ছিল বিজেপি নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে পাহাড়ে পাহাড়প্রমাণ নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে, যেখানে কোনো নিয়ম না মেনে প্রভাবশালীদের আত্মীয়দের চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী:
“বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠদের সুবিধা করে দিতে জিটিএ-র নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিটি অভিযোগকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। পাহাড়ের সাধারণ ও যোগ্য যুবকদের বঞ্চিত করে এই সিন্ডিকেট চালানো হয়েছে। কিন্তু নতুন সরকার এই অন্যায় বরদাস্ত করবে না। খুব দ্রুত এই সমস্ত ফাইল খুলে পাহাড়ের মাটিতে আসল সাফাই অভিযান শুরু করবে প্রশাসন।”
পাহাড়ে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, চাপে গোর্খা নেতৃত্ব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে একদিকে যেমন বিরোধী বিধায়কদের ডেকে সৌজন্যের রাজনীতি দেখিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তেমনই জিটিএ তদন্তের হুঁশিয়ারি দিয়ে পাহাড়ের বর্তমান শাসক জোট ও তৃণমূলপন্থী গোর্খা নেতাদের ওপর এক মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করে দিলেন তিনি। বিদায়ী জমানায় পাহাড়ের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে জিটিএ-র তহবিল ও নিয়োগের এক বড় ভূমিকা ছিল। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী সেই দুর্নীতির শিকড়ে আঘাত হানার বার্তা দেওয়ায়, সমতলের পাশাপাশি পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণও যে দ্রুত বদলাতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।