স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থা কাণ্ড, জেলা পরিষদ সদস্য-সহ ৪ নেতাকে ‘শোকজ’ করল রাজ্য বিজেপি

স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থা কাণ্ড, জেলা পরিষদ সদস্য-সহ ৪ নেতাকে ‘শোকজ’ করল রাজ্য বিজেপি

পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ব্লকের পাথরডি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে (BMOH) হেনস্থা ও মারধরের ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব। সরকারি চিকিৎসকের ওপর হামলার এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘দলবিরোধী কার্যকলাপ’ আখ্যা দিয়ে অভিযুক্ত ৪ হেভিওয়েট নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ (Showcause) করা হয়েছে। একই সাথে, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই চার জনকেই দলের সমস্ত রকম সাংগঠনিক কাজ ও কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর শুভেন্দু অধিকারী সরকার যখন রাজ্যজুড়ে ‘আইনের শাসন’ ও সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তার ওপর জোর দিচ্ছে, ঠিক তখনই খোদ দলীয় নেতাদের এই অতি-সক্রিয়তার বিরুদ্ধে বিজেপির এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলে এক বড় বার্তা দিল।

কেন এই কড়া পদক্ষেপ? কী ঘটেছিল পাথরডিতে?

ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ই মে। অভিযোগ, পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ব্লকের পাথরডি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক স্থানীয় প্রসূতি মায়েদের উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে ঝাড়খণ্ড বা ভিনরাজ্যের বড় হাসপাতালে স্থানান্তরের (Refer) পরামর্শ দিচ্ছিলেন। এই খবর পাওয়ার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি নেতারা।

তাঁদের দাবি ছিল, বাংলার প্রসূতিদের কেন ভিনরাজ্যের হাসপাতালে পাঠানো হবে? এই প্রশ্ন তুলে গত ১২ই মে ওই ৪ বিজেপি নেতা সদলবলে পাথরডি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে ঘেরাও করেন এবং তীব্র হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে কড়াকড়ি চলছে, তখন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে খোদ চিকিৎসকের ওপর এই হামলার ঘটনা নবান্ন ও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের নজরে আসে।

শোকজ পাওয়া বাঘমুন্ডির ৪ বিজেপি নেতা কারা?

দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং চিকিৎসকদের আশ্বস্ত করতে বুধবার রাজ্য বিজেপির ডিসিপ্লিনারি কমিটির নির্দেশে যে চার জন নেতাকে শোকজের চিঠি পাঠানো হয়েছে, তাঁরা হলেন:

  • রাকেশ মাহাতো: পুরুলিয়া জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য তথা বাঘমুন্ডি ব্লকের বিজেপির মূল আহ্বায়ক (Convener)।
  • বিজয়মোহন সিং: বাঘমুন্ডি ব্লকের বিজেপির সহ-আহ্বায়ক।
  • অরুণচন্দ্র মাঝি: বাঘমুন্ডি মণ্ডল ৪-এর বিজেপি সভাপতি।
  • মিঠুন কুমার: বাঘমুন্ডি এলাকার যুব মোর্চার সভাপতি।

দলের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ, অস্বস্তিতে পদ্ম শিবির

জেলা স্তরের এই ৪ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে শোকজের চিঠি ইস্যু হওয়ার পর পুরুলিয়া জেলা বিজেপির অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ, সরকারি আধিকারিক বা চিকিৎসকদের গায়ে হাত দেওয়া কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, তিনি দলের যত বড় পদাধিকারীই হোন না কেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে যখন কলকাতায় তৃণমূলের একের পর এক বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হচ্ছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হচ্ছে, তখন খোদ শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে, নতুন প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিজেদের দলের লোকেদেরও রেয়াত করতে রাজি নয়। শোকজ পাওয়া এই চার নেতা আগামী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজ্য নেতৃত্বকে কী সাফাই দেন এবং তাঁদের ওপর স্থায়ী কোনো শাস্তির কোপ পড়ে কিনা, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *