প্রথম ছয় ম্যাচে জয় অধরা থাকার পরেও প্লে-অফের লড়াইয়ে কেকেআর, কোন মন্ত্রে? মুম্বইকে হারিয়ে জানালেন রাহানে

ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে আইপিএলের প্লে-অফের লড়াইয়ে দারুণভাবে টিকে রয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। টুর্নামেন্টের প্রথম ছ’টি ম্যাচের পর কেকেআর যে এভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, তা বোধহয় অতি বড় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞও ভাবেননি। কিন্তু ক্রিকেটে যে কোনো কিছুই আসাম্ভব নয়, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন অজিঙ্ক রাহানেরা। প্রথম ছয় ম্যাচে জয় অধরা থাকার পর, পরের সাতটি ম্যাচের মধ্যে ছ’টিতেই জিতে প্লে-অফের দৌড়ে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে নাইটরা। বুধবার মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে রোমাঞ্চকর জয়ের পর ইডেনে দাঁড়িয়ে এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নেপথ্য কাহিনী শোনালেন স্বয়ং নাইট অধিনায়ক।
খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে রাহানে স্পষ্ট জানান, তাঁদের এই ঘুরে দাঁড়ানোর মূল চাবিকাঠি হলো দলের ওপর অবিচল ‘আত্মবিশ্বাস’। রাহানের কথায়:
“প্রথম ছ’টা ম্যাচে পয়েন্ট না পাওয়ার পর আমরা দলের সবাই বেশ কয়েক বার একসঙ্গে বসে আলোচনা করেছি। সত্যি বলতে, তার আগে আমরা যে খুব খারাপ ক্রিকেট খেলছিলাম, তা কিন্তু নয়। তবে টি-টোয়েন্টির মতো ফরম্যাটে জিততে গেলে ম্যাচের গুরত্বপূর্ণ ও চাপের মুহূর্তে ভাল পারফর্ম করতে হয়, যা আমাদের ক্ষেত্রে হচ্ছিল না। কিন্তু আমাদের ড্রেসিংরুমের আত্মবিশ্বাস কখনো কমেনি। সেই জেদ আর বিশ্বাসই আমাদের আজ এই জায়গায় এগিয়ে নিয়ে এসেছে।”
কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের দরাজ সার্টিফিকেট অধিনায়কের
দলের এই কঠিন সময়ে সাজঘরের পরিবেশকে হালকা ও ইতিবাচক রাখার পুরো কৃতিত্ব কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের দিয়েছেন অধিনায়ক। রাহানে জানান, টানা হারের পরেও দলের কোচিং স্টাফেরা ক্রিকেটারদের ওপর থেকে ভরসা হারাননি। এক বারের জন্যও সাজঘরের পরিবেশ বিষাক্ত বা খারাপ হতে দেওয়া হয়নি। প্রতি মুহূর্তে ক্রিকেটারদের উদ্বুদ্ধ করা এবং অনুশীলনে খামতি না রাখার সুফলই এখন হাতেনাতে পাচ্ছে কেকেআর।
গ্রিন-ম্যাজিক এবং নারাইন-বরুণদের প্রশংসা
চলতি মরসুমে নিলামের রেকর্ড ২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকার ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে মরসুমের শুরুতে তুমুল চর্চা হয়েছিল। প্রথম কয়েকটি ম্যাচে বল না করলেও গ্রিনকে একটানা খেলিয়ে গিয়েছে কেকেআর ম্যানেজমেন্ট। আর এখন বল হাতে তুলে নেওয়ার পর থেকেই গ্রিনের ব্যাটিং গ্রাফও আকাশছোঁয়া। গ্রিনকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত রাহানে বলেন, “গ্রিন যখন থেকে বল করা শুরু করেছে, তখনই বোঝা যাচ্ছে ও মাঠে কতটা তফাৎ গড়ে দিতে পারে। এই ফরম্যাটে ও নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।”
পাশাপাশি বল ও ব্যাটে দলের ত্রাতা রভম্যান পাওয়েল, বরুণ চক্রবর্তী এবং মিস্ট্রি স্পিনার সুনীল নারাইনেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন অধিনায়ক। ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিভাধর ক্রিকেটার অনুকূল রায় এবং কার্তিক ত্যাগীর নাম উল্লেখ করে রাহানে জানান, চাপের মুখে এই তরুণ তুর্কিরাও দেখাচ্ছেন যে তাঁরা এই দলের কত বড় সম্পদ।
প্রথম সুযোগেই বাজিমাৎ, মণীশ পাণ্ডেকে নিয়ে আবেগঘন রাহানে
চলতি মরসুমে প্রথম বার প্রথম একাদশে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েই ম্যাচের সেরা (Man of the Match) হয়েছেন কেকেআরের পুরনো ও অভিজ্ঞ যোদ্ধা মণীশ পাণ্ডে। মণীশের এই অনবদ্য ইনিংস নিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অধিনায়ক। তিনি বলেন, “মণীশ আজকে যে ইনিংসটা খেলল, সেটা এক কথায় অসাধারণ। এতদিন সুযোগ না পেলেও ও প্রতিদিন নেটে সমান পরিশ্রম করেছে, অনুশীলনে বিন্দুমাত্র ফাঁকি দেয়নি। আজ ওকে এভাবে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে দেখে দলের প্রত্যেকটি সদস্য অত্যন্ত আনন্দিত।”
নজরে দিল্লির বিরুদ্ধে শেষ ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ
আগামী রবিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দিল্লির বিরুদ্ধে নামবে কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই নাইটদের সামনে। তবে নিজেদের ম্যাচের পাশাপাশি অন্য দলের অঙ্কের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে কেকেআর-কে। রাহানে জানান, “আমরা একটা করে ম্যাচ ধরে এগোচ্ছি। আমাদের শেষ ম্যাচের আগে মুম্বই বনাম রাজস্থান ম্যাচ আছে, যার ফলাফলের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে সেসব সমীকরণ সরিয়ে রেখে, গত ছ’-সাতটা ম্যাচে আমরা যে আগ্রাসী মানসিকতা নিয়ে খেলেছি, ঠিক সেই জেদ নিয়েই দিল্লির বিরুদ্ধে মাঠে নামব। আমাদের লক্ষ্য কেবলই জয়।”