মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর প্রথম দিল্লি সফর, মোদীর সঙ্গে বৈঠকে কি কাটবে মন্ত্রিসভার জট?
পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার ঠিক বারো দিনের মাথায় এবার তাঁর প্রথম দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। আগামীকাল, বৃহস্পতিবার জঙ্গলমহলের একটি হাইপ্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠক এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন পদযাত্রা সেরেই তিনি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফর যেমন প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণের রূপরেখা নির্ধারণেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কেন এই সফর এবং নেপথ্যের কারণ
শুভেন্দু অধিকারীর এই দিল্লি সফরের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ এবং দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সবুজ সংকেত পাওয়া। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সহ মোট ৪৪ জন মন্ত্রী হতে পারেন। কিন্তু বর্তমান সরকারে মুখ্যমন্ত্রী সহ মাত্র ছয় জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। ফলে সিংহভাগ দফতর এখন মন্ত্রীহীন এবং স্বাভাবিকভাবেই সেই বিশাল কাজের চাপ সামলাতে হচ্ছে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে। পালাবদলের পর বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ রূপ না আসায় রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। বিজেপি সূত্রের খবর, তাড়াহুড়ো না করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সবদিক খতিয়ে দেখে পা ফেলতে চাইছে নেতৃত্ব। রাজ্য বিজেপি ইতিপূর্বেই সম্ভাব্য মন্ত্রীদের একটি তালিকা তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সারলেও, দলের প্রথা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তথা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিলমোহরের জন্যই এই দিল্লি যাত্রার আয়োজন।
সম্ভাব্য প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
এই হাইপ্রোফাইল সফরে আগামী পরশুদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক বিশেষ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৈঠকের প্রভাব রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী হতে পারে। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের জট কেটে যাবে এবং নতুন মন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, পূর্বতন সরকারের আমলে আটকে থাকা একাদিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও দুই নেতার মধ্যে নীতিগত আলোচনা হতে পারে, যা রাজ্যের থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজে গতি আনবে।
দিল্লির এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে তৎপরতা এখন তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন এবং আগামীকালই রওনা হচ্ছেন সুকান্ত মজুমদারও। ফলে, শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রথম দিল্লি সফর এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক যে নতুন রাজ্য সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।