যাত্রীদের নরকযন্ত্রণা! ‘গ্যাস চেম্বার’ বিমান থেকে ১০ ঘণ্টার বিশৃঙ্খলা—কেন বারবার বিতর্কে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস?

যাত্রীদের নরকযন্ত্রণা! ‘গ্যাস চেম্বার’ বিমান থেকে ১০ ঘণ্টার বিশৃঙ্খলা—কেন বারবার বিতর্কে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস?

একের পর এক যান্ত্রিক বিভ্রাট এবং পরিষেবাগত চরম গাফিলতির জেরে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছে বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দেশের দুটি বড় শহরের বিমানবন্দরে সংস্থাটির আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সংযোগকারী বিমানে যে নজিরবিহীন ভোগান্তির চিত্র সামনে এসেছে, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দিল্লি ও কলকাতায় ঘটে যাওয়া এই পৃথক দুটি ঘটনায় বিমান সংস্থার দায়বদ্ধতা এবং যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টি বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

দিল্লির বিমানে রুদ্ধশ্বাস সাড়ে তিন ঘণ্টা

দিল্লি থেকে পুণেগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের আইএক্স-১২৩০ উড়ানটিতে মঙ্গলবার ভোরে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও ভোর ৪টা ২০ মিনিটে বোর্ডিং সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় ভোগান্তি। প্রযুক্তিগত ত্রুটির অজুহাতে যাত্রীদের প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বিমানের ভেতরেই আটকে রাখা হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, এই দীর্ঘ সময়ে বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমানের ভেতরটি কার্যত একটি ‘গ্যাস চেম্বারে’ পরিণত হয়েছিল। তীব্র গরমে যাত্রীরা অসুস্থ বোধ করলেও বিমান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট তথ্য বা বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি রওনা দিলেও এই বিলম্বের চেইন রিঅ্যাকশনে পুণে-ইন্দোর এবং ইন্দোর-দিল্লি উড়ানগুলোও চরম বিপর্যস্ত হয়।

কলকাতায় ১০ ঘণ্টার সীমাহীন অপেক্ষা

একই দিনে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের আরেকটি ফ্লাইটে চরম হয়রানির শিকার হন যাত্রীরা। সকাল সাড়ে ৬টার বিমান দফায় দফায় সময় পরিবর্তন করে অবশেষে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে রওনা দেয়। প্রায় ১০ ঘণ্টার এই দীর্ঘ বিলম্বে কোনো রকম আগাম তথ্য দেওয়া হয়নি বলে যাত্রীদের অভিযোগ। উল্টো বারবার গেট পরিবর্তন করে যাত্রীদের বিভ্রান্ত করা হয় এবং দীর্ঘক্ষণ খাবার বা জলের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। চেন্নাইগামী এই বিমানে বহু চিকিৎসারত রোগী ছিলেন, যাঁরা এই দীর্ঘ অপেক্ষায় আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বিভ্রাটের কারণ ও যাত্রী পরিষেবায় প্রভাব

বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে দিল্লির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জানানো হয়েছে, বোর্ডিংয়ের পর বিমানে আকস্মিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়েছিল এবং মেরামতের কাজ চলাকালীন মাটিতে থাকা অতিরিক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। তবে কলকাতা ও দিল্লির দুই ঘটনাতেই স্পষ্ট যে, কারিগরি ত্রুটির পাশাপাশি সঠিক সময়ে তথ্য আদান-প্রদানের অভাব বা ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’ যাত্রীদের ক্ষোভ ও ভোগান্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ধরণের ধারাবাহিক বিপর্যয় বিমান সংস্থার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে যেমন প্রকাশ করে, তেমনই জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প উড়ান বা যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের ঘাটতিকেও সামনে এনেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *