চার দিনেই কোটি ছুঁইছুঁই ফলোয়ার, নেটপাড়ায় ঝড় তুলল ককরোচ জনতা পার্টি!

মাত্র চার দিন আগে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আর এই সামান্য সময়ের মধ্যেই দেশের প্রধান শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-কে সরাসরি টেক্কা দেওয়ার পথে হাঁটছে তারা। আপাতদৃষ্টিতে একে একটি রাজনৈতিক দল মনে হলেও, মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অভিনব ফ্রন্টটি এখন ঝড়ের গতিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বুধবার রাত পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে এই ফ্রন্টের ফলোয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭.৭ মিলিয়ন বা ৭৭ লক্ষে। ফলোয়ার বৃদ্ধির এই হার বজায় থাকলে খুব দ্রুতই তারা বিজেপির ৮.৭ মিলিয়ন ফলোয়ারের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে আম আদমি পার্টির ফলোয়ার ১.৯ মিলিয়ন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ৫ লক্ষ ৩৭ হাজার, সেখানে মাত্র চার দিনে ককরোচ জনতা পার্টির এই উত্থান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও চমকে দিয়েছে।
নেপথ্যের কারণ ও প্রতিবাদের ভাষা
এই নাটকীয় উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে দেশের এক সাম্প্রতিক বিতর্ক। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের শুনানির সময় বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশকে উদ্দেশ্য করে একটি মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়াকে কাজে লাগিয়েই মূলত জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আম আদমি পার্টির সাবেক সমাজমাধ্যম প্রচারক অভিজিৎ দীপকের হাত ধরে তৈরি হওয়া এই ফ্রন্টের ঘোষিত আদর্শ হলো ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস। দেশের বেকারত্ব ও নিট (NEET) কেলেঙ্কারির মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ জানাচ্ছে এই প্ল্যাটফর্মটি।
ডিজিটাল দুনিয়ায় সম্ভাব্য প্রভাব
ককরোচ জনতা পার্টির এই অভাবনীয় জনপ্রিয়তা দেশের যুবসমাজের মানসিকতার এক বড় প্রতিফলন। গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক ও প্রতীকী উপায়ে ক্ষোভ প্রকাশের এই নতুন ধরণটি তরুণ প্রজন্মকে দারুণভাবে আকর্ষণ করছে। এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল না হলেও, এর মাধ্যমে নীতি-নির্ধারকদের কাছে জনগণের অসন্তোষের বার্তা খুব সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে। সোশাল মিডিয়ার দেওয়ালে যুবসমাজের এই প্রতীকী প্রতিরোধ আগামী দিনে অন্যান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে জনমত গঠনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।