ভোট মিটতেই চড়ছে সিবিআই-ইডির পারদ, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের রথীন ঘোষকে তলব সিজিও কমপ্লেক্সে

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আবারও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) স্ক্যানারে রাজ্যের বিদায়ী খাদ্যমন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের নবনির্বাচিত বিধায়ক রথীন ঘোষ। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের আবহেই এই দুর্নীতি মামলা নিয়ে চরম তৎপরতা দেখাতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আগামী সোমবার, ২৫ মে রথীন ঘোষকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
পুরনো অভিযোগ ও এড়ানো হাজিরা
২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রথীন ঘোষ যখন মধ্যমগ্রাম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে আসীন ছিলেন, সেই সময়েই তাঁর সুপারিশে পুরসভায় অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগ হয়েছিল বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দাবি। এই মামলার তদন্তে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রথীন ঘোষকে মোট পাঁচবার ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তবে ভোটের প্রচার ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণ দর্শিয়ে বারবারই তিনি সেই হাজিরা এড়িয়ে যান। সম্প্রতি নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, মধ্যমগ্রাম কেন্দ্র থেকে মাত্র ১৩০০ ভোটের ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছেন তিনি। আর এর পরেই তাঁর ওপর তদন্তের চাপ আরও বাড়াতে শুরু করে ইডি।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত ১৫ মে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলবে সাড়া দিয়ে প্রথমবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছিলেন রথীন ঘোষ। সেদিন একটানা প্রায় ৯ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় তদন্তকারীরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বয়ান খতিয়ে দেখার পর প্রয়োজনে তাঁকে আবারও ডাকা হতে পারে। সেই সূত্র ধরেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে আগামী সোমবারে পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, একই মামলায় ইতিমধ্যেই হেভিওয়েটদের ওপর রাশ টানতে শুরু করেছে ইডি। গত ১১ মে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরার পর প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি গত সোমবার দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাঁচু রায়কেও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই প্রেক্ষাপটে রথীন ঘোষের দ্বিতীয় দফার হাজিরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। খাদ্যদপ্তরের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় থাকা এই হেভিওয়েট নেতার পুনরায় তলব রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যেমন অস্বস্তি বাড়াচ্ছে, তেমনই পুরনিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের তদন্তে নতুন কোনো মোড় আসার সম্ভাবনাকেও উস্কে দিচ্ছে।