বিধানসভায় তৃণমূলের প্রথম কর্মসূচিতেই ‘ধস’! উধাও ৪৫ বিধায়ক, দলের অন্দরেই কি ভাঙন?

বিধানসভায় তৃণমূলের প্রথম কর্মসূচিতেই ‘ধস’! উধাও ৪৫ বিধায়ক, দলের অন্দরেই কি ভাঙন?

পালাবদলের পর প্রথম কর্মসূচিতেই গরহাজির ৪৫, তবে কি আড়াআড়ি ভাঙনের মুখে তৃণমূল?

রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের পর বিধানসভায় আয়োজিত প্রথম দলীয় কর্মসূচিতেই বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাস, হকার উচ্ছেদ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বুধবার বিধানসভার আম্বেদকর মূর্তির সামনে অবস্থানে বসেন দলের বিধায়করা। তবে ৮০ জন দলীয় বিধায়কের মধ্যে মাত্র ৩৫ জন এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৪৫ জন বিধায়কের এই অনুপস্থিতি শাসক শিবিরের অন্দরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও ভাঙনের জল্পনা

ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে দল পরিচালনা নিয়ে একাধিক নেতার ক্ষোভ প্রকাশ্য আসছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিপুল সংখ্যক বিধায়কের গরহাজির থাকা সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। অনুপস্থিত বিধায়কদের কেউ কেউ বিজেপি বা কংগ্রেসের মতো বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরেই চর্চা শুরু হয়েছে। এর আগে গত ৬ মে কালীঘাটের প্রথম বৈঠকে ৯ জন এবং ১৯ মে দ্বিতীয় বৈঠকে ১২ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে ধারাবাহিক এই অনুপস্থিতি দলে আড়াআড়ি বিভাজনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পরিষদীয় দলের যুক্তি ও পদ্ধতিগত জটিলতা

দলীয় নেতৃত্বের একাংশ অবশ্য ভাঙনের তত্ত্ব উড়িয়ে দিতে চাইছেন। তৃণমূল পরিষদীয় দলের দাবি, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে বহু এলাকায় দলীয় কর্মীরা অত্যাচার ও হুমকির মুখে পড়েছেন। কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এবং এলাকা সামলাতেই অনেক বিধায়ক কলকাতায় আসতে পারেননি। তবে এই ব্যাখ্যা জল্পনা থামাতে পারছে না। এর পাশাপাশি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাওয়া নিয়ে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে বিধায়কদের স্বাক্ষরিত তালিকা জমা না পড়া নিয়েও এক ধরনের পদ্ধতিগত জটিলতা ও সমন্বয়হীনতা সামনে এসেছে, যা দলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে।

এক ঝলকে

  • রাজ্যে পালাবদলের পর বিধানসভায় তৃণমূলের প্রথম কর্মসূচিতে ৮০ জনের মধ্যে ৪৫ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন।
  • অবস্থান বিক্ষোভে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং কুণাল ঘোষের মতো মাত্র ৩৫ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন।
  • গত তিনটি দলীয় বৈঠকে অনুপস্থিত বিধায়কের সংখ্যা যথাক্রমে ৯, ১২ এবং ৪৫ হওয়ায় দলে অসন্তোষের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী।
  • পরিষদীয় দল এলাকা গোছানোর যুক্তি দিলেও দল পরিবর্তনের জল্পনা এবং বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে জটিলতা বহাল রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *