নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটানোর লক্ষ্যে এবার পৃথক শিলিগুড়ি জেলার দাবি!

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ও আন্তর্জাতিক স্তরে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবার পৃথক শিলিগুড়ি জেলা গঠনের দাবি জোরালো হয়ে উঠল। শিলিগুড়ি মহকুমার তিনটি এবং জলপাইগুড়ি জেলার একটি—এই মোট চার বিধানসভা এলাকা নিয়ে নতুন জেলা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন। বুধবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে এই সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি তুলে দিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভৌগোলিক দূরত্ব ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
প্রস্তাবিত এই জেলা গঠনের নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে প্রশাসনিক জটিলতা ও সাধারণ মানুষের সীমাহীন ভোগান্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে শিলিগুড়ি মহকুমার প্রশাসনিক সদর দপ্তর প্রায় একশ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি শহর দার্জিলিংয়ে অবস্থিত। সমতলের বাসিন্দাদের যেকোনো জরুরি প্রশাসনিক কাজের জন্য দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। শিলিগুড়ি একটি বর্ধিষ্ণু শহর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও নিজস্ব জেলা সদর না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই এলাকাটিকে ঘিরে রয়েছে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের মতো আন্তর্জাতিক সীমান্ত। বিধায়কের দাবি, শিলিগুড়িকে পৃথক জেলা ঘোষণা করা হলে এই সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাটো ও সুসংহত করা সম্ভব হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, শিলিগুড়ি মহকুমার ৮০০ বর্গ কিলোমিটার এবং জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের শিলিগুড়ি পুরনিগম ভুক্ত ২০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে এই নতুন জেলা গঠিত হতে পারে। অর্থাৎ, শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে জেলাটি গঠিত হলে তা ওই অঞ্চলের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।