বিএসএফকে জমি দিয়ে এত প্রচার কেন, শুভেন্দুকে তীব্র কটাক্ষ সৌগত রায়ের

বিএসএফকে জমি দিয়ে এত প্রচার কেন, শুভেন্দুকে তীব্র কটাক্ষ সৌগত রায়ের

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর জন্য সীমান্তরক্ষা বাহিনীকে (বিএসএফ) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জমি দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। গত বুধবার নবান্নে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্তে কাঁটাতারের আসাম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে দাবি করেন, আগের সরকার চাইলেই জমি দিতে পারত, কিন্তু ইচ্ছে করে দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই পাল্টা সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এই কাজ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী এত সস্তা প্রচার কেন নিচ্ছেন?

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও বাগযুদ্ধ

তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি বরাদ্দের যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর তারা কেবল সেটুকুই পালন করেছে। তাঁর মতে, সীমান্তের ওই জমিগুলো মূলত অনাবাদি এবং সেগুলোর অর্থনৈতিক মূল্য বিশেষ নেই। ফলে এই সাধারণ প্রশাসনিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর এত বড়াই বা প্রচার পাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সৌগত রায় স্পষ্ট জানান, শুভেন্দু অধিকারী এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তাই নিয়মানুযায়ী তিনি যেখানে খুশি জমি দিতেই পারেন, তবে এটি নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই।

অনুপ্রবেশ রোধ বনাম তোষণের রাজনীতি

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ হাজার কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ২২০০ কিলোমিটারই পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। এর মধ্যে ১৬০০ কিলোমিটারে কাঁটাতার থাকলেও বাকি ৬০০ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত রয়ে গেছে। ভারতের সুরক্ষাকে সুনিশ্চিত করতেই এই ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে একটি ‘সূচনা’ হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, পূর্বতন তৃণমূল সরকার একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক বা গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতেই ইচ্ছে করে জমি আটকে রেখেছিল। যার খেসারত হিসেবে রাজ্যে অনুপ্রবেশের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে এবং দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই অচলাবস্থা কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বিএসএফ-কে এই জমি দেওয়ার ফলে সীমান্তে অনুপ্রবেশের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার এই জাতীয় ইস্যুটি যে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়িয়ে তুলবে, তা স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *