ভ্যাপসা গরমের মাঝেই হাওয়া বদল, উত্তর ও দক্ষিণে দুই রূপ আবহাওয়ার

ভ্যাপসা গরমের মাঝেই হাওয়া বদল, উত্তর ও দক্ষিণে দুই রূপ আবহাওয়ার

দক্ষিণবঙ্গে যখন ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গে ধেয়ে আসছে ভারী বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ সংলগ্ন এলাকার একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখার কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বঙ্গে প্রবেশ করছে। এই জোড়া সিস্টেমের জেরেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে দুই বিপরীতমুখী আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে অস্বস্তিকর গরমের সঙ্গে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে গত কয়েকদিন ধরেই আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলায় রাতভর ঘামঝরানো পরিস্থিতি বজায় থাকছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই চরম গরমের মধ্যেই ২১ মে-র মধ্যে বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় হাওয়া বদল হতে পারে। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গে প্রাক-বর্ষার ভারী বৃষ্টি ও ধসের আশঙ্কা

দক্ষিণ যখন গরমে পুড়ছে, উত্তরবঙ্গে তখন প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি পুরোদমে শুরু হতে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকায় রাত থেকেই মেঘলা আকাশ এবং দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জলপাইগুড়ি, আলিপুরদয়ার এবং দার্জিলিং জেলায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝড়-বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহের সম্ভাব্য প্রভাব

এই আবহাওয়ার জেরে দার্জিলিং ও কালিম্পং সহ পাহাড়ের জেলাগুলিতে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ি রাস্তায় ধস নামার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত কড়া রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হিট স্ট্রোক বা ডিহাইড্রেশন এড়াতে পর্যাপ্ত জল ও ওআরএস (ORS) সঙ্গে রাখার এবং ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ বা গাছের তলায় না থেকে পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *