বিগত ১৫ বছরের লেনদেনে নজর! দুর্নীতি খুঁজতে এবার ‘ইন্টারনাল অডিট’-এর বড় সিদ্ধান্ত নবান্নের

নবান্ন সহ রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলি থেকে সরকারি ফাইল বাইরে যাওয়া রুখতে কড়া নজরদারির পর, এবার রাজ্যের অধীনস্ত সংস্থাগুলির দিকে নজর দিল প্রশাসন। বিগত ১৫ বছরের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা খতিয়ে দেখতে এবার বড়সড় ইন্টারনাল অডিট বা অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। রাজ্যের অর্থ সহায়তাপ্রাপ্ত সংস্থা, বিভিন্ন উন্নয়ন পর্ষদ এবং স্বশাসিত সংস্থাগুলির মাধ্যমে কোনো আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। ইতিপূর্বেই ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতেও স্পেশাল অডিটের ঘোষণা করা হয়েছে, যার পর এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
স্বচ্ছতা ফেরাতে সক্রিয় অর্থদপ্তর
রাজ্য অর্থদপ্তরের নিজস্ব ইন্টারনাল অডিট ব্রাঞ্চের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আর্থিক লেনদেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং কোনো সংস্থাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না—তা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা হবে। বিগত কয়েক বছর ধরে এই অডিট নিয়মিত না হওয়ায় এই শাখার প্রায় ৭০ জন আধিকারিককে অন্য বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল, যাদের এখন পুনরায় মূল অডিট ব্রাঞ্চে ফিরিয়ে আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে নির্দেশ আসার পর ইতিমধ্যেই পর্যায়ক্রমে কাজ এগোনোর জন্য ‘প্ল্যানিং ডকুমেন্টস’ বা রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে, যা শেষ হলেই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
তালিকায় একাধিক বড় সংস্থা
প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের অধীনস্থ ও আর্থিক সহায়তায় চলা বড় সংস্থাগুলির একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। আমলাদের ধারণা অনুযায়ী, এই তালিকায় হাউজিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (হিডকো), পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা, কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) এবং বিভিন্ন পরিবহণ সংস্থা থাকতে চলেছে। এর আগে বালি পুরসভার ইন্টারনাল অডিট করানো হয়েছিল, তাই এবারের তালিকায় পুরসভাগুলি অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের। ২০১১ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর যেভাবে অডিটে জোর দেওয়া হয়েছিল, ২০২৬ সালের পরিবর্তনের পরও একই পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এই অভ্যন্তরীণ তদন্তে কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি সামনে এলে প্রশাসন কী আইনি পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- বিগত ১৫ বছরে রাজ্যের অধীনস্ত উন্নয়ন পর্ষদ ও স্বশাসিত সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেনের ইন্টারনাল অডিট করাবে নবান্ন।
- টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় ছিল কি না এবং কোনো আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা যাচাই করাই এই অডিটের মূল উদ্দেশ্য।
- হিডকো, কেএমডিএ, বিদ্যুৎ বণ্টন ও পরিবহণ সংস্থার মতো বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি এই অডিটের তালিকায় থাকতে পারে।
- অডিট প্রক্রিয়া শুরু করতে অর্থদপ্তরের প্রায় ৭০ জন আধিকারিককে পুনরায় ইন্টারনাল অডিট ব্রাঞ্চে ফিরিয়ে আনার তোড়জোড় চলছে।