মাস ফুরানোর আগেই পকেট খালি! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই এবার আমজনতার পার্সোনাল চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

মাস ফুরানোর আগেই পকেট খালি! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই এবার আমজনতার পার্সোনাল চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

মাসিক বেতন অ্যাকাউন্টে ঢোকার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পকেট খালি হয়ে যাওয়া এবং মাস শেষে খরচের হিসাব মেলাতে না পারা বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় সমস্যা। দৈনন্দিন যাতায়াত, অনলাইন ফুড ডেলিভারি, আচমকা কেনাকাটা কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশনের চক্করে পড়ে অনেকেই উপার্জিত অর্থের সঠিক হিসাব রাখতে পারেন না। এই খতিয়ানহীন খরচের লাগাম টানতে এবং সাধারণ মানুষকে একটি নিয়মতান্ত্রিক আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে এখন দারুণ বিকল্প হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটজিপিটি। কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই সাধারণ মানুষ এখন এই প্রযুক্তিকে নিজেদের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে ব্যবহার করছেন।

ডিজিটাল খেরোখাতায় যেভাবে কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চ্যাটজিপিটি-কে সঠিক নির্দেশনা বা ‘প্রম্পট’ দেওয়ার মাধ্যমে চোখের পলকে পুরো মাসের একটি সুনির্দিষ্ট বাজেট তৈরি করে নেওয়া সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যবহারকারী যদি তার মোট আয় এবং বাড়ি ভাড়া, ইএমআই বা পরিবারের খরচের মতো নির্দিষ্ট ব্যয়ের পরিমাণ চ্যাটজিপিটি-কে জানান, তবে এই এআই প্রযুক্তি প্রচলিত ৫০-৩০-২০ নিয়ম (প্রয়োজন, ইচ্ছা ও সঞ্চয়) মেনে একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরি করে দেয়।

এখানেই শেষ নয়, প্রতিদিনের ছোট-বড় খরচের তালিকা ইনপুট করলে এটি রিয়েল-টাইম ট্র্যাকার হিসেবে কাজ করে এবং কোন খাতে বরাদ্দের চেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে, সেই বিষয়ে ব্যবহারকারীকে সতর্কবার্তা দেয়। মাস শেষে সম্পূর্ণ খরচের একটি সামগ্রিক অডিট রিপোর্ট তৈরি করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের খাতগুলো চিহ্নিত করতেও এটি সমান পারদর্শী। এর ফলে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই বুঝতে পারেন কোন ৩টি খরচ এড়িয়ে চললে মাসের শেষে বড় অঙ্কের টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব হতো।

আর্থিক শৃঙ্খলা ও সচেতনতার নতুন দিগন্ত

প্রথাগত ডায়রি বা জটিল এক্সেল শিটের তুলনায় চ্যাটজিপিটি-র মাধ্যমে খরচ ট্র্যাক করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও ইন্টারেক্টিভ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এটি একদিকে যেমন ইমার্জেন্সি ফান্ড বা জরুরি তহবিল গঠনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিতে পারে, অন্যদিকে মানুষের আবেগতাড়িত বা ঝোঁকের মাথায় করা খরচের ধরন বিশ্লেষণ করে সঠিক পরামর্শ দিতে সক্ষম। ফলে অবহেলায় টাকা উড়ে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু জরুরি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু এটি একটি পাবলিক এআই প্ল্যাটফর্ম, তাই এখানে কখনোই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, ওটিপি, সিভিভি বা কোনো সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়। পাশাপাশি, চ্যাটজিপিটি প্রতিদিনের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চমৎকার সাহায্য করলেও বড় ধরনের কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *