‘ভাষা যেন পাকিস্তানের জঙ্গিদের মতো!’ মোদি-শাহকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলায় রাহুলকে তীব্র নিশানা বিজেপির

‘ভাষা যেন পাকিস্তানের জঙ্গিদের মতো!’ মোদি-শাহকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলায় রাহুলকে তীব্র নিশানা বিজেপির

পাকিস্তানের সুরে কথা বলছেন রাহুল গান্ধী, চরম আক্রমণ বিজেপির

উত্তরপ্রদেশের রায়বেরিলিতে এক দলীয় কর্মিসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ‘বিশ্বঘাতক’ বলে কটাক্ষ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাহুল গান্ধীর এই চরম আক্রমণের জবাবে গেরুয়া শিবিরও পাল্টা আক্রমণ শানাতে এতটুকু দেরি করেনি। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব একযোগে দাবি করেছেন, কংগ্রেস নেতার এই ভাষা আসলে পাকিস্তান এবং পাক-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সুরের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ ও তরজা

রায়বেরিলির ওই সভায় রাহুল গান্ধী দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আরএসএস কর্মীরা সামনে এলে তাঁদের মুখের ওপর যেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশ্বাসঘাতক বলা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ভারতের সংবিধান, বি আর আম্বেদকর এবং মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং পাল্টা দাবি করেন, রাহুল গান্ধী আসলে শত্রুদেশের মতো কথা বলে দেশে অশান্তি তৈরি করতে চাইছেন। অন্যদিকে, বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী একে ১৪০ কোটি ভারতবাসীর অপমান বলে অভিহিত করেছেন।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ এক ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে। রাহুল গান্ধীর এই ঝাঁঝালো আক্রমণের মূল কারণ হলো দলের কর্মীদের চাঙ্গা করা এবং জাতীয় স্তরে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা। তবে এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। বিজেপির পক্ষ থেকে এই মন্তব্যকে দেশবিরোধী ও বিভেদকামী মানসিকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা আগামী দিনের রাজ্য নির্বাচনগুলোতে কংগ্রেসকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যেভাবে রাহুল গান্ধীকে ‘যুবরাজ’ কটাক্ষ করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন, তাতে এই বিতর্ক আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক ঝলকে

  • রায়বেরিলির কর্মিসভায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বিশ্বঘাতক’ বলে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর।
  • রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যকে পাকিস্তান ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সুরের সঙ্গে তুলনা করে পাল্টা তোপ দাগল বিজেপি।
  • কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং ও যোগী আদিত্যনাথ সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাহুল গান্ধীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
  • রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটে লাগাতার হারের হতাশা এবং দলের কর্মীদের চাঙ্গা করতেই এই ধরণের আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *