বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন লাগলেও ভারতে কেন স্বস্তি!

বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব পড়েছে অত্যন্ত সামান্য। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের যোগানে বড়সড় ধাক্কা লাগে। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে এই দাম কিছুটা কমে ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের আশেপাশে থাকলেও বিশ্বের একাধিক দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। তবে বিশ্ববাজারের এই চরম মন্দার মধ্যেও ভারতের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম রয়েছে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
শুল্ক হ্রাস ও সরকারের নীতিগত হস্তক্ষেপ
GlobalPetrolPrices-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ভারতে পেট্রোলের দাম ৪.২ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৪.৪ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমারে পেট্রোলের দাম ৮৯.৭ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ১১২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন এবং ইউরোপের একাধিক দেশেও জ্বালানির দাম বিপুল হারে বেড়েছে।
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার বোঝা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিলেও ভারত সরকার নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করেছে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে কেন্দ্র সরকার একাধিকবার আবগারি শুল্ক (excise duty) কমিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সর্বশেষ, ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ স্পেশাল অ্যাডিশনাল এক্সাইজ ডিউটি (SAED) কমানোর ফলে পেট্রোলের ওপর আবগারি শুল্ক কমে লিটার প্রতি ৩ টাকা এবং ডিজেলের ওপর শূন্য হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার একটা বড় অংশ সরকারি রাজস্ব এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলো নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়ায় ভারতের বাজারে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ভ্যাটের তারতম্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব
সরকারি এই পদক্ষেপের কারণে দেশের বাজারে বড় ধাক্কা না লাগলেও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে রাজ্যে রাজ্যে জ্বালানির দামে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। মূলত বিভিন্ন রাজ্যে ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স বা ভ্যাট (VAT)-এর হার আলাদা হওয়ার কারণেই এই ফারাক। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং কেরালায় ভ্যাটের হার বেশি হওয়ায় সেখানে জ্বালানির দাম কিছুটা বেশি। অন্যদিকে গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, গোয়া এবং আসামে ভ্যাটের হার কম হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেল তুলনামূলকভাবে কম দামে মিলছে।
এই শুল্ক ছাড়ের কারণে সরকারি কোষাগারে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাপী এনার্জি সাপ্লাই চেইনের এই সংকটের মাঝেও সরকারের এই বিপুল আর্থিক দায়ভার গ্রহণের ফলে দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর বাড়তি চাপ কমানো সম্ভব হয়েছে।