কোটি টাকার সোনা চুরি করে প্রেমিকের সঙ্গে পলায়ন, অতঃপর বিশ্বাসঘাতকতা ও হাজতবাসের করুণ পরিণতি

প্রেমের টানে নতুন জীবন শুরু করার রঙিন স্বপ্ন দেখেছিলেন এক নারী। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের অন্ধ মোহে জড়িয়ে পড়লেন কোটি টাকার সোনা চুরির মতো মারাত্মক অপরাধে। তবে শেষরক্ষা হলো না; যার জন্য সবকিছু ত্যাগ করলেন, সেই প্রেমিকের চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং পুলিশের তৎপরতায় এখন তাঁর ঠিকানা হাজত। গুজরাতের আমেদাবাদের নিকোল-নারোদা এলাকার গ্র্যাভিটি শপিং মলের ‘আভূষণ জুয়েলার্স’-এ ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর চুরি ও প্রতারণার ঘটনাটি বর্তমানে দেশের ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পোশাকের আড়ালে দেড় কোটি টাকার সোনা চুরি
অভিযুক্ত নারীর নাম হর্ষিদা রাজেন্দ্রকুমার শেট্টি (৩৮)। তিনি গত ১১ মাস ধরে ওই জুয়েলারি শোরুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে শোরুমের মালিক দর্শনভাই খেতে বের হতেই হর্ষিদা তাঁর পূর্বপরিকল্পনা কার্যকর করার সুযোগ পান। বিকেল চারটে থেকে সাড়ে চারটের মধ্যে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় দোকানের ডিসপ্লে ট্রে এবং আলমারি থেকে একের পর এক সোনার গয়না সরাতে শুরু করেন তিনি। সোনার চেন, আংটি, মঙ্গলসূত্র, দুল, পেন্ডেন্ট, নূপুর এবং ঘড়িসহ মোট ১ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকার সোনা তিনি নিজের পোশাকের ভেতর লুকিয়ে ফেলেন। চুরির পর সহকর্মীদের জরুরি কাজের অজুহাত দেখিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দোকান থেকে বেরিয়ে যান তিনি। সন্ধ্যায় এক গ্রাহককে গয়না দেখানোর সময় চুরির বিষয়টি নজরে আসে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হর্ষিদার অপরাধ শনাক্ত করা হয়।
প্রেমিকের প্ররোচনা ও মাঝপথে স্বপ্নভঙ্গ
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, হর্ষিদা একজন বিবাহবিচ্ছিন্না নারী। তিনি ময়ূর অশোকভাই মালি নামে এক বিবাহিত যুবকের প্রেমে পড়েন। প্রেমিকের প্ররোচনাতেই তিনি এই চুরির ছক কষেছিলেন। চুরির পর দু’জনে মোটরবাইকে করে আমেদাবাদ ছেড়ে উদয়পুর ও জয়পুর হয়ে দিল্লিতে পালিয়ে যান। কিন্তু দিল্লিতে পৌঁছানোর পর নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাটি। হর্ষিদা হোটেলে স্নান করতে ঢুকলে তাঁর প্রেমিক ময়ূর অধিকাংশ গয়না নিয়ে চম্পট দেয়। মাত্র ১৮ থেকে ২২ লক্ষ টাকার কিছু গয়না হর্ষিদার ব্যাগে অবশিষ্ট ছিল। যার ওপর ভরসা করে হর্ষিদা এই অপরাধের পথে পা বাড়িয়েছিলেন, সেই প্রেমিকের এমন বিশ্বাসঘাতকায় তিনি কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েন।
পুলিশের যৌথ অভিযান ও গ্রেফতার
ঘটনার পর আমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং নিকোল থানার পুলিশ যৌথভাবে তদন্তে নামে। প্রায় ৩০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর নাভা নারোদা এলাকা থেকে হর্ষিদাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে ২২.৫ লক্ষ টাকার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রেমিক ময়ূর মালিকে চিহ্নিত করে বাকি গয়না উদ্ধারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। অভ্যন্তরীণ কর্মীর সংশ্লিষ্টতায় শোরুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর হতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি বড় প্রমাণ।