এক্সপ্রেসওয়ের জালে লজিস্টিকসের সেরা হাব হয়ে উঠছে উত্তরপ্রদেশ

এক্সপ্রেসওয়ের জালে লজিস্টিকসের সেরা হাব হয়ে উঠছে উত্তরপ্রদেশ

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে এক সময়ের স্থলবেষ্টিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ এখন দেশের বৃহত্তম লজিস্টিকস এবং কানেক্টিভিটি হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এক্সপ্রেসওয়ে, ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর, আধুনিক গুদামঘর এবং বিমানবন্দরের এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে রাজ্যটি তার পরিকাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছে। এই মজবুত পরিকাঠামোগত উন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ‘লিডস (LEADS) ২০২৫’ রিপোর্টে উত্তরপ্রদেশকে ‘এগজেমপ্লার’ (Exemplar) বা দৃষ্টান্তমূলক ক্যাটেগরিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, পরিকাঠামো, লজিস্টিকস পরিষেবা, ডিজিটাল সিস্টেম এবং নিয়ন্ত্রক পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোতে উত্তরপ্রদেশের পারফরম্যান্স জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক উঁচুতে। সড়ক, রেল এবং আকাশপথের সমন্বিত ফার্স্ট-লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটির কারণে রাজ্যটি এখন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও শিল্প বিকাশের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্রেট করিডোরের যুগলবন্দি

উত্তরপ্রদেশের এই রূপান্তরের মূলে রয়েছে এর এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক। পূর্বাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড, গোরখপুর লিঙ্ক, আগ্রা-লখনউ এবং যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে রাজ্যের প্রান্তিক এলাকাগুলো সরাসরি জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (NCR) ও বড় শিল্প শহরগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে নতুন পালক হিসেবে যুক্ত হতে চলেছে নির্মীয়মাণ গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে, যা পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশকে একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক সুতোয় বাঁধবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই উন্নতির ফলে পণ্য পরিবহন যেমন দ্রুত হয়েছে, তেমনই শিল্প সংস্থাগুলোর সাপ্লাই চেইন আরও শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি, ইস্টার্ন এবং ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর উত্তরপ্রদেশের কৌশলগত অবস্থানকে বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গ্রেটার নয়ডার দাদরিতে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হওয়া মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস হাবটি বর্তমানে উত্তর ভারতের প্রধান কার্গো ও ওয়্যারহাউসিং কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। এছাড়া বোড়াকি রেল স্টেশনে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব এবং কানপুর, গোরখপুর ও ট্প্পল-বজনায় নতুন লজিস্টিকস পার্ক তৈরির কাজ চলছে।

বহুমুখী উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জোয়ার

ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে করিডোরের ধারে মেরঠ, হাপুর, আমরোহা, সম্ভল, বদায়ুঁ, শাহজাহানপুর, হারদোই, উন্নাও, রায়বরেলি, প্রতাপগড় এবং প্রয়াগরাজে ইন্টিগ্রেটেড ম্যানুফ্যাকচারিং এবং লজিস্টিকস ক্লাস্টার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষিপণ্যের সঠিক সংরক্ষণের জন্য তৈরি হচ্ছে মাল্টি-কমোডিটি কুলিং সেন্টার ও কোল্ড স্টোরেজ ইউনিট, যা কৃষি-লজিস্টিকস ও ওয়্যারহাউসিং সেক্টরকে চাঙ্গা করছে।

অন্যদিকে, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেवर এয়ারপোর্ট) উত্তর ভারতের বৃহত্তম কার্গো ও এভিয়েশন গেটওয়ে হতে চলেছে। জলপথ পরিবহনে গতি আনতে বারাণসী মাল্টিমোডাল টার্মিনাল এবং অভ্যন্তরীণ জলপথ নেটওয়ার্কের বিস্তার ঘটানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত কম খরচে পণ্য পরিবহনে সাহায্য করবে।

প্রশাসনিক স্তরে ‘নিবেশ মিত্র’ সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম এবং জিআইএস-ভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যানিং টুলের মাধ্যমে সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করায় লজিস্টিকস ও ওয়্যারহাউসিং সেক্টরে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে। এই বহুমুখী পরিকাঠামোগত সংস্কারের ফলে উত্তরপ্রদেশ এখন দেশের সাপ্লাই চেইন, উৎপাদন এবং সার্বিক অর্থনৈতিক বিকাশের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *