প্রাণভয়ে কাঁপছে ভাঙড়, এবার খোদ কাইজ়ারের বাড়ির সামনে অস্ত্রধারী অচেনা যুবকদের ‘রেকি’!

ভোট মিটলেও ভাঙড়ের রাজনৈতিক উত্তাপ কমার কোনো লক্ষণ নেই। এবার প্রকাশ্য দিবালোকে বাড়ির সামনে সশস্ত্র যুবকদের ঘোরাঘুরি ও রেকি করার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। যেকোনো মুহূর্তে খুন হয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভাঙড়ের দাপুটে নেতা কাইজ়ার আহমেদ। বুধবারের এই ঘটনার পর তিনি ইতিমধ্যেই ভাঙড় থানার দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং নিজের ও পরিবারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পুলিশি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ল সন্দেহজনক গতিবিধি
কাইজ়ার আহমেদের দাবি, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে তাঁর বাড়ির সামনে দু’জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই দু’জনের কাছেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। সাধারণত ওই সময়েই তিনি বাড়ি থেকে বের হন, তবে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ বেরিয়ে যাওয়ায় অল্পের জন্য বড়সড় বিপদ এড়ানো গেছে বলে তাঁর ধারণা। পরবর্তীতে বাড়ি ফিরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পরই তিনি ভাঙড় থানায় লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি সেই ভিডিও ফুটেজও পুলিশের হাতে তুলে দেন। অতীতেও তাঁর বাড়িতে হামলা ও খুনের হুমকি পাওয়ার কারণে এবারের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এই নেতা।
রাজনৈতিক কোন্দল ও হামলার নেপথ্য কারণ
ভাঙড়ের রাজনীতিতে তৃণমূলের সওকত মোল্লা এবং কাইজ়ার আহমেদের মধ্যকার আদায়-কাঁচকলা সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। দীর্ঘদিন ধরে দলে কোণঠাসা কাইজ়ার ২০২৩ সালের পর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে নেন। এবারের নির্বাচনে তিনি সওকত মোল্লার বিরুদ্ধে এবং আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকীর পক্ষে কোমর বেঁধে প্রচারে নেমেছিলেন। এমনকি নির্বাচনের পর আইএসএফ-এর বিজয় মিছিলেও তাঁকে অংশ নিতে দেখা গেছে। কাইজ়ারের আশঙ্কা, সওকতের বিরুদ্ধে এবং আইএসএফ-এর পক্ষে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার কারণেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তাঁকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই ছক কষা হয়ে থাকতে পারে। এর আগেও গত ফেব্রুয়ারিতে সওকত মোল্লা তাঁর বিরুদ্ধে ভাড়াটে খুনি লাগিয়েছেন বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছিলেন কাইজ়ার।
ভাঙড়ের আইন-শৃঙ্খলায় সম্ভাব্য প্রভাব
কাইজ়ার আহমেদের মতো হেভিওয়েট নেতার বাড়ির সামনে এভাবে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরির ঘটনা ভাঙড়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের পর ভাঙড়ে আইএসএফ-এর নাম করে এক শ্রেণির দুষ্কৃতী তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কাইজ়ার নিজে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ওপর কোনো রকম হামলা হলে বা এর সঠিক তদন্ত না হলে ভাঙড়ে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও রক্তক্ষয়ী হিংসা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এলাকা শান্ত রাখতে পুলিশকে অবিলম্বে কাইজ়ারের বাড়ির চারপাশে টহলদারি বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে। তবে পুলিশ এই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।