মাত্র চার দিনেই সোশাল মিডিয়ায় ঝড়, বিজেপিকে জোর টক্কর দিচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’!

সোশাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে বাড়ছে একটি নতুন পেজের জনপ্রিয়তা। আপাতদৃষ্টিতে একে একটি রাজনৈতিক দল মনে হলেও, এটি আসলে একটি প্রতীকী ও ব্যঙ্গাত্মক ফ্রন্ট। আত্মপ্রকাশের মাত্র চার দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে এর ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ৭৭ লক্ষে (৭.৭ মিলিয়ন) পৌঁছে গিয়েছে। ফলোয়ার বৃদ্ধির এই অভাবনীয় হার দেশের বর্তমান শাসক দল বিজেপিকেও টেক্কা দেওয়ার মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে বিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা ৮৭ লক্ষ, যেখানে আম আদমি পার্টির ১.৯ মিলিয়ন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ৫ লক্ষ ৩৭ হাজার। এই ধারা বজায় থাকলে দলটি কংগ্রেসের ১ কোটি ৩২ লক্ষ ফলোয়ারের রেকর্ডকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপথ্যে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ও যুবসমাজের ক্ষোভ
এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। একটি মামলার শুনানির সময় তিনি মন্তব্য করেন, দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ আরশোলার মতো আচরণ করছেন। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য সমাজমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয় এবং নেটিজেনদের বড় একটি অংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এই নিন্দার রেশ ধরেই আম আদমি পার্টির প্রাক্তন সমাজমাধ্যম প্রচারক অভিজিৎ দীপকের হাত ধরে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। নিজেদের আদর্শ হিসেবে তারা ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও অলস’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করছে।
ডিজিটাল প্রতিবাদের সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিট (NEET) কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব— যুবসমাজের বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে এই পেজটি প্রতিনিয়ত সরব হচ্ছে। এটি কেবল একটি রসাত্মক পেজ হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে, বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি তরুণ প্রজন্মের সুপ্ত ক্ষোভ প্রকাশের অন্যতম প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। এত অল্প সময়ে বিপুল জনসমর্থন প্রমাণ করে যে, দেশের যুবসমাজ প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমেও জোরালো প্রতিবাদ গড়ে তুলতে সক্ষম, যা ভবিষ্যতে মূলধারার দলগুলোর জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।