শরিকি চাপে পিছু হটল টিভিকে, বিদ্রোহী এআইএডিএমকে বিধায়কদের জন্য বন্ধ মন্ত্রিত্বের দরজা

তামিলনাড়ুর সদ্য ক্ষমতাধীন কোয়ালিশন সরকারে বড়সড় রাজনৈতিক মোচড় তৈরি হয়েছে। বিধানসভার আস্থাভোটে মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়কে সমর্থন করা বিদ্রোহী এআইএডিএমকে (AIADMk) বিধায়কদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, শরিকদের তীব্র আপত্তিতে তা আপাতত ভেস্তে গেছে। আসন্ন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে এই দলছুট বিধায়কদের কোনোভাবেই মন্ত্রী করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (TVK)।
শরিকদের কড়া অবস্থান ও ভাঙনের হুমকি
ঘটনার সূত্রপাত বিজয় সরকারকে সমর্থনকারী প্রধান দুই শরিক দল ভিসিকে (VCK) এবং সিপিএমের কড়া অবস্থানকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি আস্থাভোটে বিদ্রোহী এআইএডিএমকে বিধায়করা বিজয় সরকারকে সমর্থন করার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়ায় যে, পুরস্কার হিসেবে তাঁদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। এই সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই ভিসিকে প্রধান থোল তিরুমাভালাভান এবং বাম নেতৃত্ব একযোগে হুঁশিয়ারি দেন যে, বিদ্রোহীদের ক্যাবিনেটে নেওয়া হলে তাঁরা সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ার কথা পুনর্বিবেচনা করবেন। এই তীব্র শরিকি চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় টিভিকে নেতৃত্ব। দলের সাধারণ সম্পাদক আদভ অর্জুনা শরিকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, দলছুট বিধায়কদের মন্ত্রিত্ব দেওয়ার কোনো ভাবনা তাঁদের নেই।
৫৯ বছর পর তামিলনাড়ু সরকারে ফিরল কংগ্রেস
শরিকি টানাপোড়েনের এই আবহে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ ৫৯ বছর পর রাজ্যের মন্ত্রিসভায় শামিল হতে যাচ্ছে কংগ্রেস। বিধানসভায় ৫ জন বিধায়ক থাকা কংগ্রেসের দুই প্রতিনিধি রাজেশ কুমার ও পি বিশ্বনাথন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বিশেষ আগ্রহ ও পীড়াপীড়িতেই কংগ্রেস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। টিভিকে-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে থাকা দলগুলিকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই কংগ্রেসকে মন্ত্রিসভায় আনা হচ্ছে।
ক্ষমতার ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর নতুন সরকারের ভিত মজবুত রাখতে এবং জোটের ঐক্য ধরে রাখতেই টিভিকে শরিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। বামেরা সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিলেও ভিসিকে এবং আইইউএমএল-এর মতো শরিকদের সরকারে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ১০ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথগ্রহণের পর বর্তমানে মন্ত্রিসভার আয়তন বাড়িয়ে প্রায় ৩৪ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শরিকদের কিছু দপ্তর দেওয়া হলেও, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলি নিজেদের হাতে রেখে আঞ্চলিক ও জাতপাতভিত্তিক সমীকরণ বজায় রাখাই এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য।