১ টাকার চকোলেটে মাতল দুই দেশ, মেলোডি কূটনীতিতে মজেছে নেটপাড়া!

১ টাকার চকোলেটে মাতল দুই দেশ, মেলোডি কূটনীতিতে মজেছে নেটপাড়া!

ইটালির মাটিতে পা রাখতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের কুশল বিনিময়ের একাধিক ছবি ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে নেটিজেনদের নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির দেওয়া একটি বিশেষ উপহার। ইটালির প্রধানমন্ত্রীকে এক প্যাকেট পার্লের ‘মেলোডি’ চকোলেট উপহার দিয়েছেন তিনি, যা নিয়ে এখন দুই দেশেই চলছে জোর চর্চা।

নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া যখন কূটনীতির টেবিলে

১৯৮৩ সালে বাজারে আসার পর থেকেই ভারতের পপ-কালচারের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মেলোডি চকোলেট। প্রখ্যাত কপিরাইটার সুলেখা বাজপাইয়ের তৈরি করা ‘মেলোডি ইতনি চকোলেটি কিউ হ্যায়?’ ট্যাগলাইনটি আজও ভারতীয়দের মুখে মুখে ঘোরে। কোনো বড় তারকা ছাড়াই স্রেফ স্বাদ আর মাত্র ১ টাকা মূল্যের কারণে দেশের ছোট-বড় শহরের প্রতিটি দোকানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এই চকোলেট। ৯০-এর দশকের সেই চকোলেটই এবার দুই দেশের মিষ্টি কূটনীতির প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। এই ঘটনার পর চকোলেট প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘পার্লে প্রোডাক্টস’ সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছে, ‘১৯৮৩ সাল থেকে আমরা সম্পর্ককে মধুর করে তুলছি।’

নরম কূটনীতির সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনীতি ও কূটনীতির চিরাচরিত গম্ভীর আবহাওয়ার বাইরে গিয়ে এই ধরণের উপহারকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিভাষায় ‘সফট ডিপ্লোম্যাসি’ বা নরম কূটনীতি হিসেবে দেখা হয়। মেলোনি ও মোদির এই চকোলেট কূটনীতি ভারত ও ইটালির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বকে বিশ্বমঞ্চে আরও সহজ ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করেছে। একই সঙ্গে এর ফলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের একটি বড়সড় ও ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং তৈরি হলো, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *