ভোপালে নেই উপযুক্ত কোল্ড স্টোরেজ, নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে ত্বিষার দেহ!

ভোপালে নেই উপযুক্ত কোল্ড স্টোরেজ, নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে ত্বিষার দেহ!

ভোপালের এইমসে আট দিন ধরে পড়ে রয়েছে তরুণী ত্বিষা শর্মার মরদেহ। মেয়ের রহস্যমৃত্যুর সঠিক বিচার না পাওয়া পর্যন্ত শেষকৃত্য সম্পন্ন করবেন না বলে অনড় অবস্থানে রয়েছে তাঁর পরিবার। তবে দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য যে চরম নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন, তা বর্তমানে ভোপালে উপলব্ধ নেই। এই পরিস্থিতিতে আদালতের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হলেও, মরদেহটি নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা এখন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হিমাঙ্কের চরম নিচে সংরক্ষণের সংকট

আদালত জানিয়েছে, বর্তমানে ত্বিষার মরদেহটি মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা আছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেহ সংরক্ষণের জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। দীর্ঘ সময় অবিকৃত রাখতে হলে মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বিশেষ কোল্ড স্টোরেজ প্রয়োজন, যা ভোপালের কোনো চিকিৎসা কেন্দ্রে নেই। এই পরিকাঠামোগত ঘাটতির কারণে মরদেহটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলস্বরূপ, মধ্যপ্রদেশের অন্যান্য বড় সরকারি হাসপাতাল বা মহানগরের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিতে এই ধরনের অতি-শীতলীকরণ ব্যবস্থা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে পুলিশকে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে আদালতের অস্বীকৃতি

ত্বিষার পরিবার প্রথম ময়নাতদন্তে অসন্তুষ্ট হয়ে পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রথম ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছিল এবং ভোপাল এইমসের চিকিৎসকদের সাথে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো যোগসাজশের প্রমাণ মেলেনি। ফলে নতুন করে ময়নাতদন্তের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আদালত।

তদন্তের মোড় ও পারিবারিক টানাপোড়েন

ত্বিষার শাশুড়ি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিং দাবি করেছিলেন যে ত্বিষা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। এমনকি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ত্বিষা সন্তান নিতে না চাওয়ায় পরিবারে অশান্তি হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ত্বিষার শরীরে কোনো মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি এবং গলার ফাঁসের দাগ বিশ্লেষণ করে একে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিকে পরিবারের অভিযোগ, আত্মহত্যার জন্য ব্যবহৃত বেল্টটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য না পাঠিয়েই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে, যা তদন্তের বড় গাফিলতি। তাঁদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লাগাতার মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন প্রাণোচ্ছল এই তরুণী। বর্তমানে শাশুড়ি গিরিবালা সিং আগাম জামিন পেলেও, মূল অভিযুক্ত স্বামী সমর্থ সিং এখনও পলাতক। তাঁর খোঁজে ৩০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভোপাল পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *