সম্প্রচারে জট কাটছে না, ক্রিকেটপ্রেমীদের নতুন চিন্তা! ইউটিউবেই কি মিলবে বিশ্বকাপের লাইভ?

১১ জুন থেকে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮ দলের ফুটবল বিশ্বকাপ। অথচ বিশ্বমঞ্চের এই মহাযজ্ঞ শুরু হতে যখন মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি, তখন ভারতীয় দর্শকদের মনে বাড়ছে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা। ইতিহাসে প্রথমবার ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ইউটিউবকে বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত করলেও, ভারতের দর্শকদের জন্য সেই সুযোগ পাওয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, এ দেশে এখনও পর্যন্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোনো সরকারি সম্প্রচারকারী সংস্থাই চূড়ান্ত হয়নি।
ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলি চাইলে নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট সরাসরি দেখাতে পারবে এবং কিছু দেশে পুরো ম্যাচ দেখানোরও অনুমতি রয়েছে। এছাড়া আমেরিকার ‘ইউটিউব টিভি’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া চ্যানেল তাদের ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে হাইলাইটস ও ম্যাচ ক্লিপ দেখাবে। কিন্তু এই সমস্ত লাইভ স্ট্রিম নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকায় ভারতের দর্শকরা তা দেখতে পারবেন না। ভারতে কোনো অফিশিয়াল ব্রডকাস্টার না থাকলে ইউটিউবে খেলা দেখার পথ কার্যত বন্ধই থাকবে।
অর্থের অঙ্ক ও সময়ের জটিলতায় কাটছে না অচলাবস্থা
এই নজিরবিহীন সম্প্রচার সংকটের মূলে রয়েছে ফিফার চড়া দাম এবং ভারতের বাজার পরিস্থিতির অমিল। শুরুতে ভারতের বাজারের জন্য সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ ফিফা প্রায় ১০ কোটি ডলার দাবি করেছিল। আইপিএল ও দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেটের পেছনে বিপুল বিনিয়োগের পর ভারতীয় কোনো সংস্থা এই বিশাল অঙ্কে আগ্রহ দেখায়নি। পরবর্তীতে ফিফা দর কমিয়ে সাড়ে ৩ কোটি ডলারে নামালেও জট খোলেনি। ভারতের অন্যতম শীর্ষ নেটওয়ার্ক জিওস্টার প্রায় ২ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিলেও ফিফা তা নাকচ করে দেয়।
এর পাশাপাশি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচের সময়সূচি। উত্তর আমেরিকায় খেলা হওয়ায় ভারতে অধিকাংশ ম্যাচ সম্প্রচারিত হবে গভীর রাত কিংবা ভোরবেলা। এই আসাময়ে কাঙ্ক্ষিত দর্শকসংখ্যা বা বিজ্ঞাপন পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে স্পনসর ও সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলির মধ্যে তীব্র সংশয় রয়েছে।
প্রসার ভারতীর পিছুটান এবং কোটি ভক্তের আশঙ্কা
সবশেষে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের বড় ভরসা ছিল সরকারি মাধ্যম প্রসার ভারতী। তবে দিল্লি হাইকোর্টে এক শুনানিতে প্রসার ভারতী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের মতো ব্যয়বহুল টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব কেনা তাদের বাধ্যতামূলক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এর ফলে ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে (ফ্রি-টু-এয়ার) খেলা দেখার শেষ সম্ভাবনাটুকুও শেষ হয়ে গেল।
বিজ্ঞাপনদাতাদের অনীহা, ফিফার অনমনীয় মনোভাব এবং সময়ের ব্যবধান—সব মিলিয়ে ভারতের ফুটবল সম্প্রচারে এক অভূতপূর্ব অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শেষ মুহূর্তে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন না হলে, কোটি কোটি ভারতীয় ফুটবল ভক্তকে হয়তো বৈধ ও সহজ উপায়ে বিশ্বকাপ দেখা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।