তৃণমূল নেতার বাড়িতে রমরমিয়ে চলছিল ভেজাল খাবারের কারবার, হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে দিল ক্ষুব্ধ জনতা!

দমদম পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের যুব তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি সৈকত তালুকদারের বাড়িতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল খাদ্য সামগ্রীর এক বিশাল কারবারের হদিস মিলল। বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে কেন্দ্রীয় বিহার আবাসনে অবস্থিত ওই নেতার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ আটা, ময়দা, সুজি এনে নতুন প্যাকেটে ভরে বাজারে ছাড়ার কাজ চলছিল। গতকাল রাতে লরি করে নতুন করে খাবার আসতেই বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। এরপরই ক্ষুব্ধ জনতা পুরো ঘটনাটি হাতেনাতে ধরে দমদম থানায় খবর দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের (ইবি) আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি সিল করে দিয়েছেন।
প্যাকেজিং বদলে বিষ ছড়ানোর ছক
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হরষিত বাইন নামের একটি সংস্থা তৃণমূল নেতা সৈকত তালুকদারের বাড়িটি ভাড়া নিয়ে এই বেআইনি ব্যবসা চালাচ্ছিল। বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের মেয়াদোত্তীর্ণ ও নষ্ট হয়ে যাওয়া খাদ্য সামগ্রী কম দামে লরি করে এখানে আনা হতো। এরপর অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেগুলোর আসল প্যাকেট ছিঁড়ে, নতুন মোড়কে ভরা হতো। নতুন প্যাকেটে ভুয়ো উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ বসিয়ে তা আবার কলকাতার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরো বাজারে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির জন্য পাঠানো হতো।
জনতার ক্ষোভ ও তদন্তের অগ্রগতি
এলাকাবাসীর দাবি, বাড়ির মালিক তথা প্রভাবশালী যুব নেতার মদত ছাড়া আবাসন চত্বরে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চালানো আসাম্ভব। যদিও এই বিষয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্ত সংস্থার মালিককে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে আর কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখতে দমদম থানা ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।