এমএস ধোনি স্ক্যাম বিতর্কে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া, সমর্থকদের আবেগ নিয়ে খেলার অভিযোগে বিদ্ধ চেন্নাই সুপার কিংস

মহেন্দ্র সিং ধোনিকে কেন্দ্র করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মঞ্চে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন তীব্র ট্রেন্ডিং ‘MS Dhoni Scam’ বা ধোনি কেলেঙ্কারি। অভিযোগ উঠেছে, ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির চোট ও ফিটনেস নিয়ে মরশুম জুড়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখে সমর্থকদের আবেগকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করেছে চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) কর্তৃপক্ষ। এই ইস্যুতে এবার সিএসকে ম্যানেজমেন্ট, অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড এবং কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত।
শ্রীকান্তের বিস্ফোরক অভিযোগ ও ধোঁয়াশা
বিতর্কের সূত্রপাত প্রাক্তন আইপিএল ক্রিকেটার অনিরুদ্ধ শ্রীকান্তের একটি শো থেকে, যেখানে সিএসকে সমর্থকদের ক্ষোভের প্রেক্ষিতে মতামত জানতে চাওয়া হলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তাঁর বাবা কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। শ্রীকান্তের দাবি, মরশুম শুরুর আগেই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ভালোভাবেই জানত যে ধোনির পায়ের পেশির চোট অত্যন্ত গুরুতর এবং তিনি পুরো মরশুম খেলতে পারবেন না। তা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে ধোনির অনুশীলনের ভিডিও প্রকাশ করে এবং অস্পষ্ট বার্তা দিয়ে একটি কৃত্রিম ভাবমূর্তি তৈরি করা হয়, যেন সব কিছু ঠিক আছে। শ্রীকান্ত স্পষ্ট জানান, সিএসকে কর্তৃপক্ষের উচিত সমর্থকদের বিভ্রান্ত করা বন্ধ করা। ধোনিকে মাঠে দেখার আশায় প্রতি ম্যাচে দর্শকেরা ভিড় করলেও, শেষ পর্যন্ত তাঁদের চরম হতাশ হতে হয়েছে।
ব্যর্থ অভিযান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ৮৯ রানে হেরে চলতি আইপিএলের প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে চেন্নাই সুপার কিংস। এই বিপর্যয়ের ঠিক পরেই ধোনি ইস্যুটি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, ধোনিকে সামনে রেখেই পুরো মরশুমের টিকিট বিক্রি করিয়েছে চেন্নাই, অথচ চোটের কারণে তিনি একটি ম্যাচেও মাঠে নামেননি। দলের বর্তমান অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াডও ধোনির অনুপস্থিতির প্রভাব স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান যে মাহি ভাইয়ের মতো ক্রিকেটার ক্রিজে থাকলে প্রতিপক্ষ চাপে থাকে, যা এবার দল মিস করেছে। তবে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখে ঋতুরাজ জানান, এই প্রশ্নের উত্তর আগামী মরশুমেই পরিষ্কার হবে, যা এই মুহূর্তে সিএসকে শিবিরের ভেতরের অস্বস্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।