আফ্রিকায় ইবোলার মারণ থাবা, স্থগিত ভারত-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলন!

আফ্রিকায় নতুন করে ডেডলি ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত করা হয়েছে বহুপ্রতীক্ষিত ভারত-আফ্রিকা ফোরাম শীর্ষ সম্মেলন। জনস্বাস্থ্যের বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও প্রশাসনের যৌথ পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ আসরে আফ্রিকার প্রায় ৫৪টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে বর্তমান স্বাস্থ্য সংকটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সম্মেলনটি সাময়িকভাবে বিলম্বিত করা হলো।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে এই ভাইরাসের প্রকোপ মূলত ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং উগান্ডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যেই শত শত মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সম্মেলনের পরবর্তী কোনো আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
পুনরায় ইবোলার হানা ও মৃত্যুর রেকর্ড
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৬৭ সালে পূর্ব আফ্রিকায় প্রথম এই ভাইরাসের সন্ধান মেলে। সাম্প্রতিক সময়ে কঙ্গো দু’বার মারাত্মকভাবে ইবোলার কবলে পড়ে—প্রথমবার ২০১৮ সালে এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে। এই দুই দফায় কেবল কঙ্গোতেই প্রায় ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ওই নির্দিষ্ট সময়কালে পুরো আফ্রিকাজুড়ে আরও অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। পশ্চিম আফ্রিকা হয়ে মধ্য আফ্রিকায় নতুন করে এই ভাইরাসের পুনরুত্থান এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
কারণ ও মারণ ভাইরাসের প্রভাব
ইবোলাকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক এবং মারাত্মক ভাইরাস হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এই রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার প্রায় ৯০ শতাংশ। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত ডায়রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তপাত এই রোগের প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষণ। দ্রুত সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতাই এই ভাইরাসের মূল শক্তি।
এই সম্মেলন স্থগিত হওয়ার ফলে ভারত ও আফ্রিকার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, কৌশলগত বিনিয়োগ এবং ভূ-রাজনৈতিক আলোচনা সাময়িকভাবে থমকে গেল। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মুহূর্তে সম্মেলন আয়োজনের চেয়ে আফ্রিকার স্বাস্থ্য বিপর্যয় রোধ করা এবং বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।