ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্বের প্রস্তাবে ভোটাভুটি স্থগিত, উত্তপ্ত মার্কিন রাজনীতি

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্বের প্রস্তাবে ভোটাভুটি স্থগিত, উত্তপ্ত মার্কিন রাজনীতি

ইরান যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্ব করার একটি প্রস্তাব ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট পার্টির আনা এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির একাধিক আইনপ্রণেতা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে পারেন—এমন আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে ভোটাভুটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্পের দল।

ভোট স্থগিতের নেপথ্য কারণ

বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক হাউস কমিটির সদস্য ও ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন। তবে ভোটাভুটির সময় রিপাবলিকান পার্টির বেশ কয়েকজন সদস্য অনুপস্থিত থাকায় তারা প্রক্রিয়াটি নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাদের দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত ভোটদান স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাভুটি হলে ট্রাম্পের নিজের দলের সদস্যদের বিরোধিতার কারণে প্রস্তাবটি দ্বিদলীয় সমর্থনে পাস হয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা ছিল। এই পরাজয় এড়াতেই মূলত ভোটাভুটি জুন মাস পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হাউস ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মতো আচরণ করছে। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা একে রিপাবলিকানদের কাপুরুষোচিত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানায়, এই ভোট হলে প্রেসিডেন্ট পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে বাধ্য হতেন।

যুদ্ধবিরতি ও সাংবিধানিক জটিলতার প্রভাব

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কোনো যুদ্ধ শুরু বা তা জারি রাখার জন্য ৬০ দিনের মধ্যে সিনেটের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালালেও ২ মার্চ সিনেটকে তা জানায়। সেই হিসাবে আগামী ১ মে এই ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও, নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে হলে ট্রাম্পের জন্য সিনেটের সবুজ সংকেত পাওয়া জরুরি।

১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি হলেও, ট্রাম্পের নিজের দলেরই অন্তত ১০ জন সদস্য এই যুদ্ধের ঘোর বিরোধী। ফলে সিনেটে ভোটাভুটির মুখোমুখি হওয়া মানেই ট্রাম্পের যুদ্ধ নীতির বড় পরাজয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর সংক্রান্ত আমেরিকার দেওয়া প্রস্তাব ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় নতুন করে হামলার সম্ভাবনা উসকে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ কীভাবে নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যৎ শান্তি ও স্থায়িত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *